kalerkantho


ব্যবহৃত জ্বালানি

চুক্তির খসড়ায় বাংলাদেশ ও রাশিয়ার সম্মতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রূপপুর পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হলেও এ বর্জ্য ফেরত নেবে তারা।

কয়েক দিন আগে রূপপুর পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া। শিগগির চুক্তি সই হবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি রাশিয়ার একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। গত ১৫ মার্চ মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে রূপপুর পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, রূপপুর পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের পরিচালক শওকত আকবর ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। রাশিয়ার প্রতিনিধিদলে ছিলেন রোসাতমের উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিকোলাই স্পাসিক, প্রতিবেশ, প্রযুক্তি ও পারমাণবিক বিষয়াদির তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠান রসতেকনাদজরের উপপ্রধান আলেক্সি ফেরাপনতভ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সফরকালে রাশিয়ার প্রতিনিধিরা পাবনার রূপপুরে পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প পরিদর্শন করেন। সেখানে একটি বৈঠকও হয়। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মঞ্জরুল হক, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নাঈয়ুম চৌধুরী ও প্রকল্পের মূল ঠিকাদার এএসই গ্রুপের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী জুন-জুলাইয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে রূপপুর পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণবিষয়ক একটি ওয়ার্কিং কমিটি রয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, রাশিয়ার রোসাতম ও এএসই গ্রুপের প্রতিনিধি এ কমিটিতে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, রূপপুর পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়া ফেরত নেবে কি না তা নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল। সাধারণ চুক্তিতে বিষয়টির উল্লেখ থাকলেও বিস্তারিত বিবরণ না থাকায় এ বিতর্ক দেখা দেয়। রূপপুর পরমাণুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়ায় ফেরত নেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সহযোগিতা চুক্তিতে (আইজিএ) রয়েছে। আইজিএ অনুযায়ী পরে ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে আরেকটি চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। আইজিএ’র ৮(২) ধারায় এর স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ১৯(৫) ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কারণে আইজিএ বাতিল হলেও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়ায় ফেরত নেওয়ার বিধান বলবৎ থাকবে।


মন্তব্য