kalerkantho


পৃথক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা

সরকার ক্ষমতায় থাকতে জঙ্গিবাদকে জিইয়ে রাখতে চায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে সরকার চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। তাঁরা বলেন, জঙ্গিবাদ দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু, দেশে আগামী দিনে উন্নয়নের শত্রু; কিন্তু সরকার এ সমস্যাকে জিইয়ে রেখে এর দায় বিরোধী দলের ওপর চাপানোর হীন চেষ্টা করছে।

জঙ্গিবাদকে মূলধন করে বিরোধী দল দমন, বিদেশি শক্তির কাছে এর ব্যবহার এবং জঙ্গিবাদকে হেলাফেলা করা থেকে বিরত থাকার জন্য তাঁরা সরকারকে অনুরোধ করেছেন।  

গতকাল শনিবার রাজধানীতে পৃথক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ। দুপুরে পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সামাজকল্যাণ দল আয়েজিত ‘মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তব্য দেন আমীর খসরু। এর আগে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লেবার পার্টি আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রুহুল কবীর রিজভী।

আমীর খসরু চৌধুরী বলেন, সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন। সেই কারণে তাদের সেই জায়গাটাতে থাকার জন্য গণবিরোধী, সংবিধানবিরোধী অনেক কাজ করতে হচ্ছে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে অনেক কাজের মধ্যে একটা হচ্ছে, জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।

আমীর খসরু বলেন, এই জঙ্গিবাদকে ঠেকাতে বেগম জিয়া খোলাখুলিভাবে প্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন—‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য চাই, জাতীয় আলোচনা চাই’। কিন্তু সরকার সেই জাতীয় ঐক্যের আলোচনা বা প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

এর কারণ হচ্ছে, জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে তারা (সরকার) রাজনৈতিক ফায়দা উসুল করছে, জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক মূলধন হিসেবে ব্যবহার করছে। সেই কারণে জঙ্গিবাদের আশঙ্কার গুরুত্ব তারা হারিয়ে ফেলেছে, বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যখন কোনো একটা বিশেষ দেশের জনগণের ইস্যু চলে আসে, সরকারকে জবাবদিহি হতে হয়, তখন আবার জঙ্গিবাদ সামনে চলে আসে। জঙ্গিবাদকে দেশ, জনগণ ও উন্নয়নের শত্রু উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশি শক্তির কাছে নিজেদের সম্পৃক্ত করার জন্য, অবৈধ সরকারের বৈধতা আনার জন্য দয়া করে জঙ্গিবাদকে বিদেশি শক্তির কাছে ব্যবহার করবেন না।

সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রাশেদের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, কাদের গনি চৌধুরী, কাজী মনিরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বলেন, সরকার একটা বিভ্রান্তি তৈরি করছে। বাংলাদেশ সরকার সব সময় বলছে, এসব জঙ্গি হচ্ছে দেশে গড়ে ওঠা (হোম গ্রোন)। কিন্তু যারা সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে গবেষণা করেন তাঁরা বলছেন, এদের সঙ্গে আইএসের সম্পর্ক আছে। কিন্তু সরকার এ বিষয় নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ উপসংহারে আসতে চায় না। জঙ্গিবাদকে জিইয়ে রেখে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর যে হীন চেষ্টা সেই চক্রান্ত তারা করে যাচ্ছে।

২০ দলীয় জোটের শরিক লেবার পার্টির এক মানববন্ধনে যোগ দিতে রিজভী প্রেস ক্লাবে ছিলেন। ওই কর্মসূচির আগে গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর কাছে সাম্প্রতিক জঙ্গিবিরোধী অভিযান এবং হামলা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকায় সদ্য সমাপ্ত পুলিশপ্রধানদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে পুলিশের আইজি কে এম শহীদুল হকের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের সমালোচনাও করেন রিজভী।


মন্তব্য