kalerkantho


তাঁতি লীগের নেতৃত্ব চান শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা

অর্ধশতাব্দী পর প্রথম জাতীয় সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ৪০ লাখ তাঁতির অন্যতম প্রতিনিধিত্বকারী বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ তাঁতি লীগের প্রথম জাতীয় সম্মেলন হতে যাচ্ছে আজ রবিবার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৬৫ সালের ২১ জানুয়ারি সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরুতে নেতৃত্বে তাঁতিরা থাকলেও এখন দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রকৃত তাঁতি নেতাদের চেয়ে বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা নেতৃত্বে আসতে তত্পরতা চালাচ্ছেন।

সর্বশেষ ২০০৩ সালের ৮ আগস্ট আহ্বায়ক কমিটি করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়নি সংগঠনের তিনটি গ্রুপে দলাদলির কারণে। ঢাকায় বসে তিনজন নেতা গঠন করেছেন বিভিন্ন জেলা কমিটি। কিন্তু সঠিক নেতৃত্ব না থাকায় সংগঠনের কর্মকাণ্ড সর্বত্রই নেতিয়ে পড়ে। আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাতে প্রধান অতিথি থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, অনুষ্ঠানে পাঁচ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবারও নেতৃত্বে আসতে আগ্রহীরা মূল দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছে তদবিরে ব্যস্ত ছিলেন।

৭৭ বছর বয়সী তাঁতি লীগের আহ্বায়ক এনাজুর রহমান গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১৯৬৫ সালে সংগঠনের যাত্রাকালের শুরু থেকে আমি জড়িত আছি।

প্রথম কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ২০০৩ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল জলিল নেত্রীর সঙ্গে আলাপ করে ২০০৩ সালের আহ্বায়ক কমিটি করে দিয়েছিলেন। আমাকে আহ্বায়ক করা হয়েছিল। তিনটি গ্রুপের কারণে কর্মকাণ্ড ভালোভাবে চালাতে পারিনি। সম্মেলনে প্যানেল গঠনের রীতি নেই। এবার তা-ও হচ্ছে। আশা করি, নেত্রী যোগ্য ও প্রকৃত নেতৃত্বকে বাছাই করবেন। ’

সংগঠনের জাতীয় সম্মেলন সামনে রেখে কমিটির নেতৃত্বে আসতে তাঁতি লীগ সমন্বয় পরিষদ ও জয় বাংলা পরিষদ নামের দুটি প্যানেল তত্পরতা চালিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবেও দলের বড় নেতাদের কাছে ছুটেছেন পদপ্রত্যাশীরা।

সভাপতি হতে চান এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান হারুন-উর-রশীদ, সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জাতীয় সমবায় শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান সাধনা দাশগুপ্তা, ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বিটু ও খগেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ। সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে তত্পরতা চালাচ্ছেন নরসিংদীর যন্ত্রচালিত তাঁত কারখানার মালিক ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলী, মাহবুব গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান খান মাহবুবুর রহমান, কবি মোশাররফ হোসেন ও সৈয়দ তানভীর ইমাম। তাঁদের মধ্যে হারুন-উর-রশীদ ও মোশাররফ হোসেন তাঁতি লীগ সমন্বয় পরিষদে আছেন। জয় বাংলা পরিষদে সভাপতি পদপ্রার্থী হয়েছেন কামরুল ইসলাম বিটু ও সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান খান।

তাঁতি লীগের ২৪ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে নাম নেই আজকের সম্মেলনে সভাপতি পদপ্রার্থী হারুন-উর-রশীদের। তিনি এশিয়ান টেক্সটাইল, এশিয়ান ফ্যাব্রিকস, এশিয়ান ইয়ার্ন ডায়িংসহ ১১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছেন। এশিয়ান টিভি ও এশিয়ান রেডিও নামে বেতারও রয়েছে তাঁর।

জয় বাংলা পরিষদের প্যানেল থেকে তাঁতি লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে তত্পর খান মাহবুব ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি সোনালি পেপার মিলের সিবিএ সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০২ সালে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ২০০৮ সালে আবার বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

সংগঠনের শুরু থেকে যুক্ত ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক এনাজুর রহমান আজকের সম্মেলনে নিজেও একজন সভাপতি পদপ্রার্থী। তাঁর কোনো প্যানেল নেই।


মন্তব্য