kalerkantho


ঢাবি শিক্ষক সমিতির বিবৃতি

ক্যাম্পাসে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট করার দাবির পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলন নিয়ে ক্যাম্পাসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (ডুটা) সভাপতি ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক ড. রহমতুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি হলে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে পরস্পরের প্রতি দোষারোপ, উত্তেজনা ও একদল উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রের হাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের নাজেহালের ঘটনা ঘটেছে। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তি ও ইনস্টিটিউটে রূপান্তরের অজুহাতে রাস্তাঘাটে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আন্দোলন, প্রতি-আন্দোলন কর্মসূচি পালনের নামে যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আর এই সুযোগে একটি গোষ্ঠী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যেমন শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে তেমনি আইন-শৃঙ্খলার অবনতিরও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অর্থ দাঁড়ায় দেশের চলমান অগ্রগতিকে বন্ধ করে দেওয়া। কয়েক বছর ধরে দেশের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো শিক্ষা ক্ষেত্রেও অনেক অর্জন হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আর সেশন জট নেই। একসময় এটি ছিল একটি বড় ব্যাধি। ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের আন্তরিক চেষ্টা ও সহযোগিতার কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।

বিবৃতিতে বিগত অর্জনকে আরো সংহত ও বেগবান করতে শিক্ষাঙ্গনে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখা ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ রক্ষার্থে সব মহলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান শিক্ষকরা।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত রাতে বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগ তাদের নিজেদের কর্মীদের তুলতে রাতভর তাণ্ডব চালায়। তারা হল প্রাধ্যক্ষের উপস্থিতিতে অফিস ভাঙচুর ও আবাসিক শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে। ইউএনবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ইমরান হোসেনকে বেদম মারধর করে। এ ঘটনার কয়েক দিন পরেই রোকেয়া হলে কক্ষ দলখকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। এ ছাড়া গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাবির অধীনে ইনস্টিটিউট করার দাবিতে কলেজের শিক্ষার্থীরা নিউ মার্কেট মোড় অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করে। এই আন্দোলনের প্রতিবাদে ঢাবির শিক্ষার্থীরা পাল্টা মানববন্ধন করে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয়।


মন্তব্য