kalerkantho


চট্টগ্রামে নাগরিক সংলাপ

এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রামে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বিষয়ক এক নাগরিক সংলাপের মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভীষ্ট-১৬ বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তরকে উদ্যম ও পেশাদারির সঙ্গে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি এটি বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু সরকারের একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়।

গতকাল শনিবার নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নতুন বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা : শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও সুশাসন’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ এ সংলাপের আয়োজন করে। সহযোগী আয়োজক ছিল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক), চট্টগ্রাম ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংলাপে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, রাজনীতিক, শিক্ষার্থী, আইনজীবী, সাংবাদিক, নারী নেত্রী, নারী উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।

নাগরিক সংলাপে সভাপতি ও সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এতে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। সংলাপে স্বাগত বক্তব্য দেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

‘বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-১৬’ শীর্ষক মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে গিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য অভীষ্ট-১৬-তে সবার জন্য ন্যায়বিচারের সুযোগ, কার্যকর জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে উৎসাহিত করা; মূলত এ তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নাছির উদ্দিন বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের যতটা দেশপ্রেমিক মনে করি প্রকৃত অর্থে আমরা ততটা দেশপ্রেমিক নই। আমাদের দেশপ্রেম দেখা যায় কেবল ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ কিংবা ১৬ ডিসেম্বর এলে। এই দিনগুলো ছাড়া অন্য সময় আমাদের দেশপ্রেম আছে কি না তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ দেশপ্রেম থাকলে, দেশের স্বার্থের কথা মাথায় থাকলে কোনো ধরনের অন্যায় করা সম্ভব হতো না। ’ এসডিজি অর্জনে নাগরিক সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করে সিটি মেয়র বলেন, ‘এসডিজি সম্পর্কে মানুষের ভাবনা এবং তাদের উপলব্ধি কী, তা জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য যত বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করে সংলাপ করা যায় তত ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি। ’

চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন প্রসঙ্গ টেনে মেয়র বলেন, সিডিএ, পুলিশ, টিঅ্যান্ডটি, কর্ণফুলী গ্যাস, ওয়াসা নিজেদের মতো করে কর্মপরিকল্পনা করে কাজ করে। কিন্তু মেয়রকে বলা হয় নগরপিতা। সব কিছুর জন্য করপোরেশনকে দায়ী করা হয়। যানজট নিরসনের জন্য পুলিশ কাজ করছে। সেখানে করপোরেশনের ভূমিকা কতটা?

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) ও এসডিজির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এসডিজিতে শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও সুশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এটিকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে দেখছি। সেই অনুপ্রেরণা থেকে সিপিডি (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) এখানে সাচিবিক দায়িত্ব পালন করছে। ’

বিশেষ অতিথি ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য সিকান্দার খান বলেন, ‘সুশাসন পেলে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হতো। মানবাধিকার পেলে নিরাপত্তা পেতাম। নিরাপত্তা পেলে শান্তি আসত। কিন্তু সুশাসনের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। ’ তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সুধীসমাজকে জনগণের প্রতিপক্ষ করে দেওয়া হচ্ছে। সুধীসমাজ কোনো বেতনধারী পোস্ট নয়। তারা নিজেরা বসে যা অসংগতি দেখে তা জনগণের সামনে তুলে ধরে। তাদের মতামত গ্রহণ করা বা না করা সেটা নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু সেটা না করে ব্যক্তি আক্রমণ হলে ভবিষ্যতে তারা নিরুৎসাহ হবে। ’

সংলাপে আরো বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চট্টগ্রামের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, শিক্ষাবিদ ফেরদৌস আরা আলীম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি শাহ আলম, স্থপতি জেরিনা হোসেন প্রমুখ।


মন্তব্য