kalerkantho


সকালে গ্রেপ্তার, রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

কসবায় ১৬ মাসে মৃত্যু তিনজনের

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সকালে গ্রেপ্তার, রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার সকালে এ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন দিবাগত রাতে উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের হাজীপুর এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন।

এ নিয়ে গত ১৬ মাসে এই উপজেলায় তিনজন নিহত হয়েছে, যাদের সবাই ডাকাত বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, হাজীপুরে নিহত মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে কালা জহির (৩৫) উপজেলার কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের মধ্যপাড়ার নসু মিয়ার ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক চোরাচালানের অভিযোগে ছয়টি মামলা আছে।

কসবা থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়েও এলাকায় প্রতি মাসে দু-চারটি ডাকাতি হতো। তবে এখন ডাকাতির ঘটনা প্রায় শূন্যের কোঠায়। আশা করছি, আমাদের তত্পরতার মধ্য দিয়ে ডাকাতি একেবারে শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। চিহ্নিত যে কজন ডাকাত আছে তাদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। ’

ওসি জানান, সর্বশেষ ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত কালা জহির বছর তিনেক আগে বর্তমান আইনমন্ত্রীর (তখন মন্ত্রী ছিলেন না) বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন।

ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত এক ব্যক্তি আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা জানান।

পুলিশের দাবি, গত শুক্রবার সকালে কালা জহিরকে তাঁর নিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে তাঁকে নিয়ে হাজীপুর এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা জহিরের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি ছোড়ে। পরে সেখানে জহিরের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন, কনস্টেবল মো. নজরুল ও মো. শাহবুদ্দিন আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১২টি ককটেল, দুটি রামদা, একটি পাইপগান ও পাঁচটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনায় গতকাল শনিবার কসবা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কসবার খাড়েরা এলাকায় ২০১৫ সালের ১৮ নভেম্বর পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সাকিব উদ্দিন নামের একজন নিহত হন। কসবার মরাপুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা সাকিবের বিরুদ্ধে সড়কে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে। গত বছরের ১৬ জুলাই কসবার মাইচার গ্রামের পশ্চিমপাড়ার ইদ্রিস আলীর ছেলে লোকমান মিয়া ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। মহাসড়কে ডাকাতির সময় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি মারা যান বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট মনকসাইর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ হন ইব্রাহিম মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তিনিও ডাকাত বলে পুলিশ দাবি করে তখন।


মন্তব্য