kalerkantho


বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বাংলাদেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না : প্রধানমন্ত্রী

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী এবং ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী। ছবি : বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এই বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না। যে যেখানে আছেন সেখানেই তাদের প্রতিরোধ করতে হবে।

আমাদের নেতাকর্মীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে, কারো সন্তান যেন কোনোভাবে জঙ্গিবাদের পথে না যায়। ’ কারো এলাকায় জঙ্গি বা সন্ত্রাসী রয়েছে কি না, এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি। শেখ হাসিনা সমাজের সব শ্রেণি-পেশার নাগরিককে সঙ্গে নিয়ে তাঁর সরকারের জঙ্গিবাদবিরোধী পদক্ষেপ অব্যাহত রাখারও দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে যাতে সন্তানরা দূরে থাকে সেদিকে সবাইকে লক্ষ রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র মিলনায়তনে জাতির জনকের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্য দিচ্ছিলেন। শুরুতেই জাতির পিতা এবং পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে নিহত তাঁর পরিবারের সদস্য, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র হাতে নিয়ে পুলিশ ও বিএনপি নেতৃবৃন্দের মদদে বাংলা ভাইয়ের মাধ্যমে যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ চালু করা হয়েছিল, তা দমনে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। একসঙ্গে ৫০০ জায়গায় জঙ্গিরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান দেশে ধরা পড়েছে। এর সঙ্গে দেখা গেল খালেদা জিয়ার মন্ত্রীরাই জড়িত।

আদালতে প্রমাণ হওয়ায় তারা সাজাও পেয়েছে। ’

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার ছেলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে বিচারের সম্মুখীন হয়েছে, খালেদা জিয়া নিজে এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে এখন আদালতে গিয়ে মামলা মোকাবেলায় ভয় পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিভিন্ন মামলা আদালতে গিয়ে মোকাবেলার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা কিন্তু যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করতে জানি। কারণ আমাদের সততার জোর আছে। সততা একজন রাজনীতিবিদের বড় শক্তি। যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন, আমরা সততার সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি বলেই আজকে বাংলাদেশের উন্নতি হচ্ছে। ’

‘জাতির পিতা চেয়েছিলেন বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা দেশকে সেভাবে উন্নত, সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মীদের শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব। ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদ্‌যাপন করব। তাঁর স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করব। ’

সভায় আরো বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘রাজনীতি করি বাংলাদেশের জনগণের জন্য, রাজনীতি করি পিতার আদর্শে। জনগণের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে যেখানে প্রস্তুত, সেখানে মিথ্যা দুর্নীতির অভিযোগ এনে ভয় দেখাবে, আমি তো ও রকম বাবার সন্তান নই। আমি শেখ মুজিবের সন্তান। ’ তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন কানাডার সেই ফেডারেল কোর্ট বলে দিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভুয়া, বানোয়াট। অন্তত বাংলাদেশের মানুষের সম্মান আমরা রেখেছি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা অতন্দ্র প্রহরী, বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী—তাদেরকে একটি স্বাধীন দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনী হিসেবে আমরা গড়ে তুলেছি এবং জাতির পিতার ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতিমালার আওতায় আমরা ফোর্সেস গোল ২০৩০ গ্রহণ করে উন্নয়ন করে যাচ্ছি। পুলিশ বাহিনী, বর্ডার গার্ড, আনসার ও ভিডিপি, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিটি বাহিনীকে আমরা একটা স্বাধীন দেশের উপযুক্ত করে গড়ে তুলে দেশের মানুষকে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের হাত থেকে মুক্ত করার পদক্ষেপ নিচ্ছি। ’


মন্তব্য