kalerkantho


নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

সাঈদীর ঘনিষ্ঠজনের হাতে নৌকা!

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় দেউলবাড়ী দোবরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মাস্টার ওয়ালীউল্লাহ। তাঁর বাবা মাওলানা মফিজুর রহমান স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর চাচা মীম ফজলুর রহমান বরিশাল জেলা জামায়াতের আমির ছিলেন। এমনকি যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ঘনিষ্ঠজন হয়ে কাজ করেছেন ওয়ালীউল্লাহ। এমন ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওয়ালীউল্লাহর বাবা মাওলানা মফিজুর রহমান শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। চাচা মীম ফজলুর রহমান বৃহত্তম বরিশাল জেলার জামায়াতের আমির ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে নাজিরপুর ও বানারীপাড়া থানার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৭২ সালে তাঁর চাচা মীম ফজলুর রহমান দালাল আইনে অভিযুক্ত হয়ে দুই বছর কারাভোগ করেন। এরপর ১৯৯৬ সালে স্বরূপকাঠি-বানারীপাড়া আসনে জামায়াতের দলীয় প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশ নেন।

২০০৮ সালের ২০ জুলাই মাওলানা মীম ফজলুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সক্রিয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওয়ালীউল্লাহ জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর কর্মী হিসেবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। যুদ্ধাপরাধী সাঈদী এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে চেয়ারম্যান পদে তিনবার পরাজিত হন ওয়ালীউল্লাহ।

জানা যায়, ওয়ালীউল্লাহ জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন মর্মে তৎকালীন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর যুদ্ধাপরাধী সাঈদী তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ২০০৩ সালের জুন মাসে ওয়ালীউল্লাহর বাড়িতে মধ্যহ্নভোজে অংশ নেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ওয়ালীউল্লাহ খোলস পাল্টে আওয়ামী লীগার সাজার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন কলাকৌশলে স্থানীয় এমপি আউয়ালের ঘনিষ্ঠজন হয়ে ওঠেন।

দেউলবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল চন্দ্র মিস্ত্রি বলেন, ‘২০১৪ সালে ওয়ালীউল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করে। বর্তমানে সে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য। আমার জানা মতে, এর আগে সে আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না। ’

তবে ওয়ালীউল্লাহর সঙ্গে কথা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের লোক। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আমি এই ইউনিয়নটি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে উপহার দেব। ’


মন্তব্য