kalerkantho


জনসংহতি সমিতির জাতীয় সম্মেলন শুরু

আসতে পারে নতুন কর্মসূচি ও ঘোষণা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এম এন লারমা গ্রুপের তিন দিনব্যাপী ১১তম জাতীয় সম্মেলন শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে খাগড়াছড়ি খাগড়াপুর কমিউনিটি সেন্টারে এ সম্মেলন শুরু হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের অধিকার আদায়ে সম্মেলন থেকে নতুন কর্মসূচি ও আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গতকাল সম্মেলন উদ্বোধন করেন বিদায়ী কমিটির সভাপতি সুধাসিন্ধু খীসা। প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন জনসংহতি সমিতির নেতা প্রফুল্ল কুমার চাকমা। সভার শুরুতেই সাত সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী গঠন করা হয়।

সম্মেলন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্মেলনের শেষ দিনে ‘খাগড়াছড়ি ঘোষণা’ নামে একটি ঘোষণাপত্র আসতে পারে। সেই ঘোষণায় পাহাড়ি জাতির ভবিষ্যৎসহ দলের চূড়ান্ত একটি কর্মসূচি ঘোষিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া দলকে আরো চাঙ্গা ও সংগঠিত করতে দলের নতুন কৌশল ও নীতিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়গুলোও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কেন্দ্রীয় সদস্য জানিয়েছেন, দলের সাংগঠনিক শক্তি জোগাতে কমিটিতে নতুনত্ব আসতে পারে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সুধাসিন্ধু খীসা বলেন, ‘পার্বত্য চুক্তির ১৯ বছরেও যেখানে বাস্তবায়ন হয়নি, সেখানে এই সরকারের কাছে আশার আর কিছু নেই। তবু চুক্তি বাস্তবায়নসহ জুম্ম জাতির অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। ’ 

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক তাতিন্দ্র লাল চাকমা ওরফে মেজর পেলে, কেন্দ্রীয় নেতা মৃণাল কান্তি ত্রিপুরা, অ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমা, সুদর্শন চাকমা, মহালছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান কাকলি খীসা, সুধাকর ত্রিপুরা, বিমলেন্দু চাকমা, ধীর কুমার চাকমা, প্রশান্ত কুমার চাকমা প্রমুখ।

সম্মেলনে খাগড়াছড়ির ৯ উপজেলা এবং রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি, লংগদু, কাউখালী, নানিয়ারচরসহ তিন পার্বত্য জেলার ১৫০ জন প্রতিনিধি ও ২৫০ জন পর্যবেক্ষক অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন শান্তিবাহিনীর অস্ত্র সমর্পণকারী সদস্য, জনসংহতি সমিতির কর্মী, জনপ্রতিনিধি, জেএসএসের সক্রিয় সমর্থক, হেডম্যান-কারবারি, অঙ্গসংগঠনের নেতারা এবং বিশিষ্টজন।

এদিকে এবার দলটি ১১তম জাতীয় সম্মেলন করলেও বস্তুত এম এন লারমা গ্রুপের এটি তৃতীয় সম্মেলন। ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালার বাবুছড়ার বড়াদম হাইস্কুল মাঠে প্রথম জাতীয় সম্মেলন বা কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। আর সেদিনই প্রথম প্রকাশ্য দ্বিধাবিভক্ত হয় জনসংহতি সমিতি। নানা আদর্শিক বিরোধের জের ধরে সংগ্রামের ৩৮ বছরের মাথায় সংগঠনের শীর্ষ নেতা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমাকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন কমিটি ঘোষিত হয়। যদিও নতুন দলটি জনসংহতি সমিতি ‘এম এন লারমা গ্রুপ’ হিসেবে পরিচয় লাভ করে। ২০১৩ সালের ১৪ জুলাই দ্বিতীয়বারের মতো কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

জনসংহতি সমিতি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে যাওয়ার পর নবাগত দলের কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক গেরিলা নেতা সুধাসিন্ধু খীসা ও আরেক প্রভাবশালী নেতা রূপায়ণ দেওয়ান। অবশ্য রূপায়ণ দেওয়ানকে এবার সম্মেলনে দেখা যায়নি। অসুস্থতার কারণে তিনি থাকতে পারেননি বলে জানা গেছে।


মন্তব্য