kalerkantho


রংপুরে বাসে পেট্রলবোমায় নিহত ৬

দুই বছর পার, এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বেশির ভাগ আসামি

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রংপুরের মিঠাপুকুরে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলায় ছয় বাসযাত্রী হত্যার ঘটনার দুই বছর পেরিয়ে গেছে। এখনো চাঞ্চল্যকর এ মামলার অনেক আসামিকে গ্রেপ্তারই করতে পারেনি পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা বলছে, সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে বিচার।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে খলিল পরিবহন নামের একটি নৈশকোচ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল। রাত ১টার দিকে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বাতাসন দুর্গাপুর এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা বাসটি লক্ষ্য করে কয়েকটি পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। এতে বাসের ভেতরে আগুন ধরে যায় এবং দগ্ধ হয়ে এক শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয় ২৫ যাত্রী।

এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ জামায়াত-শিবিরের ১৩২ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ওই বছরের ১৭ মে। এ পর্যন্ত পুলিশ ৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করলেও এখনো ৬৩ আসামি পলাতক আছে। মামলাটি বর্তমানে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১-এ বিচারাধীন।

এখন পর্যন্ত ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হলেও মামলার মূল সাক্ষী অগ্নিদগ্ধ ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনরা কেউ সাক্ষ্য দেয়নি। পুলিশও তাদের আদালতে হাজির করতে কোনো ভূমিকাই পালন করছে না। ফলে বিচার শেষ হচ্ছে না বলে অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের।

মানবাধিকারকর্মী ও রাজনীতিবিদরা বলছেন, সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে না পারা পুলিশের চরম অবহেলা। এ নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য শাহাদত হোসেন জানান, ১৩২ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করা হলেও মামলার বাদী মিঠাপুকুর থানার তৎকালীন এসআই আব্দুল আজিজ আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সব আসামির নাম বলতে পারেননি।


মন্তব্য