kalerkantho


রংপুরে কনভেনশন

তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিসসা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



তিস্তাসহ সব অভিন্ন

নদীর পানির ন্যায্য

হিসসা দাবি

তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিসসার দাবিতে গতকাল রংপুরে শোভাযাত্রা বের করে বাসদ (মার্ক্সবাদী)। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরে এক কনভেনশনে আলোচকরা বলেছেন, উজানে অসংখ্য বাঁধ ও ব্যারাজ তৈরিসহ ভারত অভিন্ন নদ-নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার করায় মরুকরণের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিসসা দাবি করেছেন তাঁরা।

‘ভারত কর্তৃক তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রসহ অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশের ওপর তার প্রভাব ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক ওই কনভেনশনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ভারতের আন্ত নদী সংযোগ প্রকল্প আন্তর্জাতিক নদী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ১৯৯৭ সালের জাতিসংঘের জলপ্রবাহ কনভেনশন অনুযায়ী প্রণীত আইনে বলা হয়েছে, নদীকে এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে অন্য দেশ মারাত্মক ক্ষতি বা বিপদের মুখে পড়ে।

জল পরিবেশ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ম. ইনামুল হক বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব মতে তিস্তায় একসময় শুকনো মৌসুমে ১৪ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতো। ভারত গজলডোবা ব্যারাজের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশ অংশে তা কমে চার হাজার কিউসেকে দাঁড়িয়েছে। খরা মৌসুমে তা ২৫০-৩০০ কিউসেকে নেমে আসে। ভারতের কাছে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ব্যর্থতার এমন ভয়াবহ পরিণতি যে চলতি মৌসুমে মাত্র ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সরবরাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না পাউবো কর্তৃপক্ষ।

বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন, শুধু তিস্তা নয়, অভিন্ন ৫৪টি নদীর ৫১টিতে ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উজানে অসংখ্য বাঁধ, ব্যারাজ দিয়েছে এবং একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করছে।

সংগঠনের গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক আহসানুল হাবীব সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনভেনশনে আরো বক্তব্য দেন নদী গবেষক মাহবুব উদ্দিন সিদ্দিকী, কারমাইকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রেজাউল হক, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা শাহাদৎ হোসেন, সাবেক উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোজাহার আলী, অধ্যাপক আব্দুস সোবাহান, অ্যাডভোকেট মুনির চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন, ডা. মফিজুল ইসলাম মান্টু প্রমুখ।


মন্তব্য