kalerkantho


আরএমপির টেন্ডার

পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে নানা অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে নানা অনিয়ম

রাজশাহী মহানগর পুলিশের দুই কোটি টাকার রেশন সামগ্রী সরবরাহের টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে অন্যদের কাছে শিডিউল বিক্রি করা হয়নি। আবার দু-একজন ঠিকাদার শিডিউল কোনোমতে সংগ্রহ করতে পারলেও গতকাল তাঁদের শিডিউল জমা দিতে দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র মতে, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) রেশন সরবরাহের জন্য গত ২ মার্চ টেন্ডার আহ্বান করা হয়। ডাল, তেল ও অন্যান্য সামগ্রীর জন্য তিনটি গ্রুপে প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল কেনার জন্য টেন্ডারটি আহ্বান করা হয়। সে অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ ছিল শিডিউল বিক্রির শেষ দিন এবং গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত শিডিউল জমাদানের শেষ সময় নির্ধারণ করা ছিল।

শিডিউল না পাওয়া কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করে কালের কণ্ঠকে জানান, বগুড়ার উত্তম কুমার রায় নামের এক ঠিকাদারকে কাজ দিতে চাইছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ। মহানগর পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম ছুটিতে থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে শুরু থেকেই তদবির শুরু করেন আরএমপি কার্যালয়ের অফিস সহকারী আব্দুল লতিফ।

তাঁর দপ্তর থেকেই শিডিউল বিক্রি করা হলেও উত্তম কুমার রায় এবং অন্য দু-একজন ঠিকাদারের নামে কয়েকটি করে শিডিউল বিক্রি করা হয়। তবে গতকাল উত্তম কুমার রায়ের জমা দেওয়া দরপত্র অনুযায়ী নিম্ন দরদাতা হিসেবে তাঁকেই কাজ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চলছে।

  

ঠিকাদাররা আরো জানান, শুধু একজন ঠিকাদার টেন্ডারে অংশ নিলে সেই টেন্ডার বাতিল বলেই গণ্য হয়। এ কারণে উত্তম কুমারের সহযোগী হিসেবে আরেকজন ঠিকাদারকে টেন্ডারে অংশ নিতে দেওয়া হয়। তবে এই টেন্ডার-প্রক্রিয়াটিতে অন্যান্য ঠিকাদারকে অংশ নিতে দিলে সরকারের অন্তত ২০-২৫ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে রেশন কেনাকাটায়। কিন্তু শুধু একজন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে প্রতিযোগী অন্য ঠিকাদারদের অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, অন্তত ছয়জন ঠিকাদার এই টেন্ডারে অংশ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ কমিশনার না থাকার সুযোগে আরএমপির কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা শুধু একজন ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে অন্য ঠিকাদারদের মাঝে শিডিউল বিক্রি করেননি। হাতে গোনা দু-একজন ঠিকাদার শিডিউল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শিডিউল জমাদানের জন্য জামানত হিসেবে ব্যাংক ড্রাফট করলেও গতকাল শিডিউল জমা দিতে পারেননি। তাঁদের শিডিউল জমা দিতে নিষেধ করায় ভয়ে আর কেউ শিডিউল জমা দেননি। এই সুযোগে উত্তম কুমার রায় নামের বগুড়ার ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে চূড়ান্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সূত্র মতে, পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশ অনুযায়ী আরএমপি পুলিশের কার্যক্রমের জন্য টেন্ডারের শিডিউল তিনটি জায়গা থেকে বিক্রি করতে হবে। আরএমপি সদর দপ্তর, রাজশাহী রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স দপ্তর ও রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় থেকে শিডিউল বিক্রির নিয়ম রয়েছে। কিন্তু শুধু আরএমপি সদর দপ্তর ছাড়া আর কোথাও শিডিউল পাঠানো হয়নি বিক্রির জন্য। ফলে ঠিকাদাররা ওই দুটি দপ্তরে শিডিউল নিতে গিয়েও ঘুরে এসেছেন। আবার আরএমপি সদর দপ্তরে গেলেও অফিস সহকারী আব্দুল লতিফ তাঁর পছন্দের বাইরে অন্য ঠিকাদারদের কাছে শিডিউল বিক্রি করেননি।

এ প্রসঙ্গে জানতে আব্দুল লতিফের মোবাইল ফোনে গতকাল বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

তবে শিডিউল নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর) তানভির হায়দার চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোনো ঠিকাদারই আমার কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। তারা শিডিউল না পেলে আমার কাছে অভিযোগ করতে পারত। কিন্তু কেউ তো অভিযোগ করেনি। তাই অনিয়ম হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। ’


মন্তব্য