kalerkantho


৬০ বন্ধ রেলস্টেশন চালু হচ্ছে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ১৮৮টি রেলস্টেশনের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপে চালু হতে যাচ্ছে ৬০টি স্টেশনের কার্যক্রম। সকালে নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশাল রেলস্টেশন থেকে একযোগে স্টেশনগুলো চালু করবেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। বন্ধ ১৪০টি স্টেশন আবার চালু করা হচ্ছে।

ঘোড়াশাল স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফা জানান, আজ থেকে ঢাকা বিভাগের ২১টি, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি, পাকশীর ২৩টি ও লালমনিরহাটের চারটি স্টেশন একযোগে চালু হবে। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক সকাল ১১টায় ঘোড়াশাল রেলস্টেশনের কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। একই সময় রেলমন্ত্রী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সারা দেশের বাকি ৫৯টি স্টেশন একযোগে উদ্বোধন করবেন।

এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খান, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন ও পৌর মেয়র শরীফুল হক শরীফ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, সারা দেশের ৪৬০টি রেলস্টেশনের মধ্যে ১৮৮টি স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১২৮টি স্টেশন বন্ধ আছে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে। বাকি ৬০টি পূর্বাঞ্চলের।

রেলওয়ে সূত্রে আরো জানা গেছে, রেলওয়ের ঢাকা বিভাগে যে ২১টি স্টেশন চালু হচ্ছে সেগুলো হলো টঙ্গী-ভৈরব সেকশনের ঘোড়াশাল, আমীরগঞ্জ, শ্রীনিধি।

টঙ্গী-ময়মনসিংহ সেকশনের ভাওয়াল গাজীপুর, সাতখামাইর, ধলা, উমেদনগর। ময়মনসিংহ-জামালপুর সেকশনের পিয়ারপুর, কেন্দুয়াবাজার, ভুয়াপুর। ময়মনসিংহ-ভৈরব সেকশনের বিস্কা, সোহাগী, নান্দাইল রোড, কালিকাপ্রসাদ। শ্যামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ সেকশনের ঠাকুরকোনা, বারহাট্টা। আখাউড়া-শায়েস্তাগঞ্জ সেকশনের মধ্যে শাহজীবাজার, মুকুন্দপুর। শায়েস্তাগঞ্জ-সিলেট সেকশনের সাতগাঁও, লংলা ও বরমচাল স্টেশন।

আর চট্টগ্রামের বিভাগের যে ১২টি স্টেশন চালু হচ্ছে সেগুলো হলো চট্টগ্রাম-লাকসাম সেকশনের মুহুরীগঞ্জ, ফাজিলপুর, শর্শদী, নাওটী। লাকসাম-আখাউড়া সেকশনের মধ্যে ময়নামতি। লাকসাম-নোয়াখালী সেকশনের দৌলতগঞ্জ, খিলা, নাথেরপেটুয়া, বজরা। লাকসাম-চাঁদপুর সেকশনের মধ্যে শাহাতলী। চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সেকশনের সরকারহাট ও ঝউতলা স্টেশন।

পাকশী বিভাগের যে ২৩টি স্টেশন চালু হচ্ছে সেগুলো হলো খুলনা-দর্শনা সেকশনের ফুলতলা, রূপদিয়া, মেহেরুল্লানগর, সফদারপুর ও আনসারবাড়ীয়া। দর্শনা-ঈশ্বরদী সেকশনের মিরপুর ও পাকশী। ঈশ্বরদী-সান্তাহার সেকশনের আজিমনগর, মাধনগর ও রানীনগর। সান্তাহার-পার্বতীপুর সেকশনের হিলি ও ভবানীপুর। পাবতীপুর-চিলাহাটি সেকশনের ডোমার স্টেশন। আব্দুলপুর-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সেকশনের কাঁকনহাট ও আমনুরা-রহনপুর সেকশনের নাচোল। যশোর-বেনাপোল সেকশনের বেনাপোল স্টেশন। পোড়াদহ-গোয়ালন্দঘাট সেকশনের কুমারখালী, খোকসা, পাংশা ও পাঁচুরিয়া স্টেশন। পাঁচুরিয়া-ফরিদপুর সেকশনের আমিরাবাদ ও ফরিদপুর। কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া সেকশনের মধুখালী স্টেশন।

রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগের যে চারটি স্টেশন চালু হচ্ছে সেগুলো হলো সান্তাহার-বোনারপাড়া সেকশনের আলতাফনগর, ভেলুরপাড়া ও মহিমাগঞ্জ। লালমনিরহাট-বুড়িমারী সেকশনের আদিতমারি অন্নদানগর স্টেশন।

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, রেলওয়ের ক্যাটাগরি অনুযায়ী সব স্টেশনই ‘বি’ শ্রেণির। এসব বন্ধ স্টেশন চালু হলে পূর্ব ও পশ্চিমের সব ট্রেনের ‘রানিং টাইম’ কমে আসবে। ট্রেনগুলো দ্রুত ক্রসিং নেওয়ার সুবিধা পাবে।

এদিকে বন্ধ রেলস্টেশন চালুকে স্বাগত জানিয়েছে যাত্রীরা। তবে স্টেশনগুলোতে ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা না হলে এ উদ্যোগ স্থানীয়দের কোনো উপকারে আসবে না বলে মনে করছেন তাঁরা।

নরসিংদী রেলস্টেশনে কথা হয় আনোয়ার হোসেন নামের এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, নিরাপদ ও সময় সাশ্রয়ী হওয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে ট্রেন ভ্রমণ। কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি না পাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধু বন্ধ স্টেশন চালু করলেই হবে না, সেখানে ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।


মন্তব্য