kalerkantho


ঢাবিতে সাংবাদিক মারধর

জড়িতদের বহিষ্কারে আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিজয় একাত্তর হলে এক সাংবাদিককে ছাত্রলীগের মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টারদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি। তারা বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করারও দাবি জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ফরহাদ উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক ফররুখ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

গত সোমবার দিবাগত রাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় বার্তা সংস্থা ইউএনবির বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার মো. ইমরান হোসেনকে মারধর করে ছাত্রলীগকর্মীরা।

সাংবাদিক সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলে কক্ষ বরাদ্দের নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করে হল শাখা ছাত্রলীগ। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ইমরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায় ছাত্রলীগের ১০-১৫ জন নেতাকর্মী। রাত ৩টার দিকে সংবাদ সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকরা যখন হল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন, তখন লাইট বন্ধ করে, মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে এ ধরনের হামলার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে সুপরিকল্পিতভাবে এ হামলা করা হয়েছে।

সাংবাদিক নেতারা উল্লেখ করেন, হল ছাত্রলীগের সভাপতি ফকির রাসেল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক নয়ন হাওলাদারের নির্দেশেই এ হামলা হয়। তাই প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগ বানিয়ে বহিষ্কার করে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না। এ ঘটনায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার (আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা) মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং ছাত্রলীগকে বিজয় একাত্তর হল শাখার কমিটি বিলুপ্ত করতে হবে।

তা নাহলে সাংবাদিকরা কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হবেন।

ছাত্রদলের নিন্দা : এদিকে সাংবাদিক ইমরানের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আকরামুল হাসান এক বিবৃতিতে বলেন, যখনই সাংবাদিকরা ছাত্রলীগের নানা অপরাধ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসা নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে সংবাদ করছেন তখনই তাঁদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো রক্তচক্ষু কিংবা সমাজবিরোধী সন্ত্রাসীদের অপকর্মকে ভয় পায়নি সাংবাদিক সমাজ। গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মীরা ভবিষ্যতেও ছাত্রলীগের যেকোনো অপতত্পরতা মোকাবেলা করে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।


মন্তব্য