kalerkantho


তিন বছর কারাদণ্ডের সাজা

ইকবালের স্ত্রী-সন্তানের বিলম্বে আপিল, হাইকোর্টের মার্জনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দুর্নীতির মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এইচ বি এম ইকবালের কারাবন্দি স্ত্রী ও সন্তানরা তিন বছর কারাদণ্ডের সাজার বিরুদ্ধে দেরিতে আপিল করলেও তাঁদের এই বিলম্ব মার্জনা করেছেন হাইকোর্ট।

গতকাল বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ দেন। আদালতে ইকবালের পরিবারের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।

খুরশীদ আলম খান জানান, তিন বছরের সাজার বিরুদ্ধে তাঁরা নির্ধারিত সময়ে আপিল করেননি। পরে (বিলম্বে) আপিল করেছেন। আদালত বিলম্বের বিষয়টি মার্জনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁদের জামিন আবেদন করা হয়েছিল। আমি বলেছি ওনাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণের পর জামিন চাইতে পারেন। আদালত তাঁদের জামিন দেননি। এখন যেকোনো সময় তাঁদের আপিল গ্রহণযোগ্যতার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসতে পারে।

এর আগে গত ৮ মার্চ স্ত্রী মমতাজ বেগম, দুই ছেলে মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল এবং মেয়ে নওরীন ইকবাল নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এর পর থেকে তাঁরা কারাবন্দি। এর পরদিনই তাঁরা সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল ও জামিন আবেদন দাখিল করেন।

আওয়ামী লীগের দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এইচ বি এম ইকবালকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে বিশেষ জজ আদালত ২০০৮ সালের ১১ মার্চ ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া তাঁকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনে ইকবালকে সহযোগিতার দায়ে তাঁর স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলায় ইকবাল ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। নিম্ন আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান। পরে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন এবং কারাগার থেকে মুক্তি পান। এরপর ইকবাল নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন। ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে আপিল না চালাতে আবেদন করে দুদক।

এ মামলায় ইকবালের স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে আত্মগোপনেই ছিলেন। এরই মধ্যে এক আবেদনে হাইকোর্ট তাঁদের সাজার কার্যকারিতা স্থগিত করেন। ২০১০ সালের নভেম্বর এর মেয়াদ শেষ হয়। দীর্ঘদিন পর ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়াতে হাইকোর্টে আবারও আবেদন করা হয়।

গত বছরের ১৮ অক্টোবর হাইকোর্ট এক আদেশে সাজা স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়িয়ে দেন। এ অবস্থায় হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে গত বছরের ১৫ নভেম্বর আপিল বিভাগে আবেদন করে দুদক। এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ওই বছরের ২৭ নভেম্বর শুনানি শেষে হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করেন। এ অবস্থায় আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুসারে তাঁরা ৮ মার্চ নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন।


মন্তব্য