kalerkantho


হাইকমিশনার শ্রিংলা বললেন অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে

একত্রে যুদ্ধজয়ের ইতিহাস বাংলাদেশ ও ভারতের

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



একত্রে যুদ্ধজয়ের ইতিহাস বাংলাদেশ ও ভারতের

বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারী বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকায় জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারীদের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আধুনিক ইতিহাসে এটি অনন্য এক উদাহরণ, যেখানে দুই দেশের সেনাবাহিনী সম্মিলিত বাহিনী হিসেবে যুদ্ধ করেছে এবং অভিন্ন শত্রুকে পরাজিত করেছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘আমাদের শহীদদের রক্ত ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এই বন্ধন চিরস্থায়ী হয়েছে। এই বন্ধন সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং আগামীতেও দুই দেশকে একতাবদ্ধ রাখবে। ’

ভারতীয় হাইকমিশনার মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করে ভারত সরকার তাদের উত্তরাধিকারীদের বৃত্তি দিচ্ছে।

হাইকমিশনার বলেন, ‘অভিন্ন ঐতিহ্য, ইতিহাস ও ভৌগোলিক বুনিয়াদের ওপর আমাদের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য আমাদের সহযোগিতা, গণতন্ত্রের আদর্শের প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকার এবং মানবিক মূল্যবোধ আমাদের পরস্পরের সহযোগী করে তুলেছে। ’

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি এবং এ বন্ধন টিকিয়ে রাখতে ও আরো দৃঢ় করতে এবং আমাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আমরা কাজ করব। ’

ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, ভারতীয় হাইকমিশন ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ একাডেমির যৌথ আয়োজনে ওই অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারীদের বৃত্তির চেক প্রদান করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ভারতীয় হাইকমিশন আরো জানায়, ২০০৬ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরাধিকারীদের জন্য ভারত সরকার মুক্তিযোদ্ধা বৃত্তি স্কিম চালু করে। বৃত্তিটি উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতকপূর্ব ছাত্রছাত্রীদের প্রদান করা হয়। স্নাতকপূর্ব পর্যায়ের একজন ছাত্র-ছাত্রী চার বছরের জন্য প্রতিবছর ২৪ হাজার টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন ছাত্র-ছাত্রী দুই বছরের জন্য প্রতিবছর ১০ হাজার টাকা করে পায়। এ স্কিমের আওতায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৩৩৬ জন ছাত্রছাত্রী উপকৃত হয়েছে এবং এসব ছাত্রছাত্রীকে ১৫ কোটি টাকারও বেশি বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলা থেকে মেধার ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রী বাছাই করা হয়। আগামী কয়েক সপ্তাহজুড়ে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহীতেও এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃত্তির চেক দেওয়া হবে।


মন্তব্য