kalerkantho


ধানমণ্ডির সেই বাড়ি সরকারেরই থাকল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীর ধানমণ্ডির ৬ নম্বর রোডে এক বিঘা জমির ওপর অবস্থিত সেই বাড়ির মালিকানা সরকারেরই থেকে গেল। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গতকাল মঙ্গলবার রায় দিয়েছেন।

বর্তমানে শত কোটি টাকা মূল্যের বাড়িটির মালিক একাত্তরে ভারতে চলে যাওয়ায় সরকার সেটা পরিত্যক্ত ঘোষণা করে হেফাজতে নিয়েছিল।

গতকাল আপিল বিভাগের রায়ে বাড়ির মালিকানা দাবিদার এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজনকে দুই শ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ দুই ব্যক্তি হলেন পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহিন ও প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন। আদালতের আদেশের পর জরিমানার টাকা গতকালই তাঁরা পরিশোধ করেছেন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সরকারের আপিল আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দিয়েছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বিবাদীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী ও শাহ মুনির শরীফ।

আদালতের আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভুয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে পরিত্যক্ত বাড়িটি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালত প্রতারকদের চিহ্নিত করেছেন ও তাদের জরিমানা করেছেন।

’ তিনি বলেন, আদালত বলেছেন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়ে যারা সম্পদ ছাড়িয়ে নেয় তাদের বেশির ভাগই ভুয়া।

জানা গেছে, ধানমণ্ডির ৬ নম্বর রোডের ৪০ নম্বর বাড়িটির মালিক হাকিম এস এ আলী ১৯৭১ সালে ভারতে চলে যান। সরকার বাড়িটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বাড়িটি সিরাজগঞ্জের তখনকার সংসদ সদস্য সৈয়দ হায়দার আলীকে মাসিক সাত শ টাকা ভাড়া পরিশোধের শর্তে পূর্ত মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয়। ১৯৭৫ সালে পূর্ত মন্ত্রণালয় বাড়িটি ফেরত নিয়ে মিসেস নাজমা মজিদকে বরাদ্দ দেয়। নাজমা মজিদই নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে বসবাস করে আসছেন বলে সরকারের নথিতে উল্লেখ আছে।

কিন্তু ১৯৮২ সালে হোসেনে আরা বেগম নামের এক নারী বাদী হয়ে ঢাকার সাব-জজ আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় মরহুম সাইফুল মূলক হাকিম সৈয়দ মোহাম্মদ সাদিকের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে প্রথম বিবাদী করা হয়। এ ছাড়া সম্পত্তিটির মূল মালিক হাকিম এস এ আলীকে মৃত দেখিয়ে তাঁর উত্তরাধিকার হিসেবে নাজনীন বেগম, রানা আলী ও ফারজানা আলী হাকিমকে দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবে হাকিম এস এ আলীর কোনো উত্তরাধিকার না থাকায় বিবাদীরা মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। এ নিয়ে পরে একাধিক মামলা হয়। সর্বশেষ মোয়াজ্জেম হোসেন পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহিনের নামে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি (আমমোক্তারনাম) তৈরি করেন। এই আমমোক্তারনামায় বাড়িটির মূল মালিক হাকিম এস এ আলীকে মৃত দেখিয়ে তাঁর স্ত্রী নাজনীন বেগম, কন্যা রানা আলী ও ফারজানা আলী হাকিমকে উত্তরাধিকার দেখানো হয়। তাঁরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে থাকেন উল্লেখ করে বাড়িটির মালিক দেখানো হয় পুলিশ কর্মকর্তা শাহিনকে। নিম্ন আদালত ২০০০ সালের ২ মে বাদীপক্ষে রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে সরকার হাইকোর্টে আপিল করে। হাইকোর্ট সরকারের আবেদন খারিজ করে ২০০৫ সালে রায় দেন। এরপর সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) আবেদন করে আপিল বিভাগে। আপিল বিভাগও সরকারের আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর সরকার রিভিউ আবেদন করে। আদালত ২০১১

সালের ২৯ এপ্রিল রিভিউ আবেদন গ্রহণ করেন এবং আপিল করার অনুমতি দেন। এরপর সরকার আপিল করে।

 


মন্তব্য