kalerkantho


গানের সুরে নৃত্যের ছন্দে আইজিসিসির উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গানের সুরে নৃত্যের ছন্দে আইজিসিসির উৎসব

জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে উঠতেই ভেসে এলো মনমাতানো গানের সুর। সেই সুরের সঙ্গে যুক্ত হলো নৃত্যের নান্দনিকতা। নৃত্যশিল্পীর নাচের মুদ্রা ও অভিব্যক্তিতে উঠে এলো বিচিত্র বিষয়। এভাবেই আনন্দ আয়োজনে উদ্যাপিত হলো ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (আইজিসিসি) সপ্তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আর নৃত্যগীতের সমন্বিত এমন বর্ণময় আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হলো গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে।   

মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন অতিথিরা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা ও তাঁর সহধর্মিণী হেমাল শ্রিংলা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিসিসির পরিচালক জয়শ্রী কুণ্ডু।

অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য, মানুষের উন্নয়নের জন্য জীবনের ধারা পরিবর্তন করতে হবে। সেখানে কোনো নেতিবাচকতার স্থান নেই।

ভারত বিশ্বের শক্তিধর দেশের একটি। এমন বড় দেশ পাশে থাকলে অন্য দেশগুলোর মধ্যে হীনম্মন্যতার সৃষ্টি হয়। কিন্তু এখন সেই নেতিবাচক আচরণকে গুরুত্ব দেওয়ার সময় নেই। মানুষে মানুষে দেশে দেশে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য রাজনৈতিক খেলা থাকবেই, কিন্তু আমাদের নিজেদের ভালোটা বুঝতে হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে অনেক মিল। মানুষের আচরণে, সংস্কৃতির ঐতিহ্যে—অনেক কিছুই এক রকম। আমাদের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐক্য রয়েছে। ’

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে কাজ করছে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার। দুই দেশের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে আইজিসিসি।   শুধু ভারতের শিল্পী নয়, বরং বাংলাদেশের শিল্পীদের অনুষ্ঠানের আয়োজন বেশি করা হয়ে থাকে এই কেন্দ্রে। সেই সুবাদে ২০১৫ সালে সারা বছরে ৯৫টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

আলোচনাপর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সুরের আশ্রয়ে শুরু হয় পরিবেশনা পর্ব। মঞ্চে আসেন আইজিসিসির সংগীতগুরু সন্তোষ কুমার মিশ্রা এবং তাঁর ২২ সংগীত শিক্ষার্থী। সংগীতের স্বরের খেলায় রাগ শুদ্ধ কল্যাণের আশ্রয়ে সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘স্বরশ্রুতি’। গান শেষে নাচ নিয়ে আসে আইজিসিসির শিক্ষার্থী শিল্পীরা। নাচ-গানের মেলবন্ধনের পর ছিল কবিতার শিল্পিত উচ্চারণ। যোগেশ ভাশিসতা হিন্দি ভাষার কবিতা থেকে পাঠ করেন। পাশাপাশি এই পরিবেশনায় অংশ নেন তাঁর শিক্ষার্থীরা। এরপর ছিল মণিপুরি আঙ্গিকের শাস্ত্রীয় নৃত্যের পরিবেশনা। ওয়ার্দা রিহাব পরিচালিত পরিবেশনাটি শ্রোতা-দর্শকের নয়নে প্রশান্তি ছড়িয়ে দেয় আইজিসিসির ৬ থেকে ১২ বছরে শিক্ষার্থীদের দলটি। পরিবেশিত হয় বাল্যকৃষ্ণ নর্তন। অনূর্ধ্ব ১২ বছরের শিল্পীরা পরিবেশন করে গোপ রস শিরোনামের নাচ। নাচ-গান ও কবিতার এ পরিবেশনার মাঝে ছিল যোগ ব্যায়ামের প্রদর্শনী।

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি—জাতীয় সংগীতের সুরে শেষ হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সব শেষে আইজিসিসির সংগীত ও নৃত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের সনদপত্র ও স্মারক প্রদান করেন অতিথিরা।


মন্তব্য