kalerkantho


নারী কনস্টেবলের নিজের কথা

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০




নারী কনস্টেবলের নিজের কথা

গায়ে পুলিশের উর্দি, মাথায় হেলম্যাট, পিঠে ব্যাগ নিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন এক নারী—রাজধানীর ব্যস্ত রাস্তায় এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। তাই দেখামাত্রই আরেক পুলিশ কর্মকর্তা অনুমতি নিয়ে দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি করলেন। তারপর তুলে দিলেন ফেসবুকে। দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়েছে লাখো মানুষের কাছে।  

ওই নারী কনস্টেবলের নাম লুত্ফা বেগম, রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় কর্মরত আছেন তিনি। গত সোমবার সাইকেলে চেপে তাঁর কর্মস্থলে যাওয়ার ছবিটি তুলেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোশতাক আহমেদ।

ফেসবুকে ছবিটি দিয়ে মোশতাক আহমেদ লিখেছেন, আজ সকালে (সোমবার) আমি অফিসে আসার সময় মগবাজার  মোড়ে দেখলাম একজন নারী কনস্টেবল সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাচ্ছেন। তাঁর কাধে ব্যাগ, মাথায় হেলমেট। আমি গাড়ি টান দিয়ে সামনে এসে কথা বললাম। নাম লুত্ফা, শিল্পাঞ্চল থানায় দায়িত্ব পালন করেন। আবাসস্থল  থেকে কর্মস্থল দূরে থাকায় সাইকেলে চালিয়ে তিনি কর্মস্থলে যাচ্ছেন।

আমার ষোল বছরের চাকরি জীবনে আমি বাংলাদেশ পুলিশে বহু ইতিবাচক পরিবর্তন  দেখেছি। কিন্তু ব্যাগ কাঁধে হ্যালমেট পরে আমার এক নারী সহকর্মীর কর্মস্থলে গমন সত্যি আমাকে বিস্মিত-অভিভূত করেছে। আমি বিশ্বাস করি, লুত্ফার এরূপ কর্মস্থলে গমন বাংলাদেশ পুলিশের পরিবর্তন ও উন্নয়নের এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক। তাঁর সহকর্মী হতে পেরে আমি গর্বিত। ’

যোগাযোগ করলে লুত্ফা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সামর্থ্য থাকলে স্কুটি (মোটরসাইকেল) কিনতাম। সেটা তো নেই, তাই বেতন থেকে আট হাজার টাকা জমিয়ে বাইসাইকেল কিনেছি। এটাই এখন আমার স্কুটি। সময়মতো অফিসে যাওয়া-আসার পাশাপাশি অনেক প্রয়োজনে কাজে লাগছে। বলা চলে এই সাইকেলই এখন আমার চলার পথের বন্ধু। ’

লুত্ফা জানান, পুলিশে যোগ দিয়েছেন দেশ ও মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য। তাই প্রতিদিন সকালে কারো ওপর নির্ভরশীল না হয়ে রাজারবাগ থেকে সাইকেলে করে তেজগাঁওয়ে কর্মস্থলে যান। এতে যানজট এড়িয়ে সময়মতো অফিসে পৌঁছা যায়।

লুত্ফার বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিলেও শত বাধা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকিনি। ছোটবেলা থেকেই নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছি। তাই লেখাপড়া শিখে বেকার থাকতে চাইনি। লেখাপড়া চালিয়ে নিতে টিউশনিও করেছি। এখন আমি অনেকটাই সফল। ’

২০০৮ সালের ৪ মার্চ পুলিশে নিয়োগ পাওয়া লুত্ফা থাকেন রাজারবাগ পুলিশ হোস্টেলে। চাকরির পাশাপাশি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়ছেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ‘পুলিশে এর আগে কোনো নারী সদস্য এভাবে সাইকেল চালিয়ে অফিস আসা কিংবা দায়িত্ব পালন করেছে কি না তা আমার চোখে পড়েনি। এটা অবশ্যই সাহসী পদক্ষেপ লুত্ফার। এই সাহসী চিন্তাভাবনা নারী পুলিশের জন্যও একটি পরিবর্তন। ’

 


মন্তব্য