kalerkantho


ব্র্যাকের প্রতিবেদন

দিনে গড়ে ২ শিশু ধর্ষণের শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুটি (১.৭) শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। নারী নির্যাতন বিষয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের তৈরি প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন সংস্থাটির সামাজিক ক্ষমতায়নের কর্মসূচির (সিইপি) কর্মসূচিপ্রধান ফারহানা হাফিজ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদা শারমীন বেনু।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, ২০১৬ সালে সংস্থার নথিভুক্ত মোট নারী নির্যাতনের মধ্যে মেয়ে শিশু নির্যাতনের হার ২০ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ৬০.৬৩ শতাংশ নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১২-১৭ বছর বয়সীরা। মেয়ে শিশু ছাড়া অন্য নারীদের ক্ষেত্রে নির্যাতনের হার ৮০ শতাংশ।

প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে জানানো হয়, ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির আওতায় গত বছর ৫৫টি জেলা ও ৩৭৯টি উপজেলায় নির্যাতনের শিকার নারীদের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়। নথিভুক্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট নির্যাতনের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের হার ৬৭, যৌন নির্যাতনের হার ১৯ ও মানসিক নির্যাতনের হার ১৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৩৯ শতাংশ মামলা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রক্রিয়াধীন ছিল। ২৬ শতাংশের কেস ফাইল হয়েছিল, ৭ শতাংশ মামলা সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে।

২৮ শতাংশ মামলায় কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বৈঠকে মাহমুদা শারমীন বেনু বলেন, ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধে অনেক আইন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি থাকার পরও প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললে ভয়াবহ চিত্র দেখতে হচ্ছে। এটি আমাদের শঙ্কিত করে। ’ আগের চেয়ে নারী নির্যাতনের ধরন ও সংখ্যাও উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ফারহানা হাফিজ বলেন, নারী নির্যাতনের ধরন যেমন পাল্টাচ্ছে, তেমনি এর সহিংসতাও দিন দিন বাড়ছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন, ‘নারী পরিপূর্ণ মানবসন্তান। তাকে পূর্ণ মানবাধিকার দিতে হবে। নারী নির্যাতন রোধে আমাদের ভালো আইন আছে ঠিকই। অনেক নারী আইন সম্পর্কে জানে না। এ জন্য তাদের তা জানানোর উদ্যোগ নিতে হবে। ’

গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন, জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি এবং সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালক আন্না মিনজ। ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর  সোশ্যাল চেঞ্জ-এর পরিচালক কে এ এম মোর্শেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. রুচিরা তাবাসসুম নভেদ, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু।


মন্তব্য