kalerkantho


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বললেন

খাতা না দেখেই চূড়ান্ত ফল দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, ‘খাতা না দেখেই চূড়ান্ত ফল দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে তাদের শিক্ষার মান কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। ’ তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের আত্মীয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক। তিনি একবার অনার্সের খাতা নিলেও অসুস্থতার কারণে দেখতে পারেননি। তাই তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান, দ্রুত যেন খাতা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর দ্বারা খাতা দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু মাসখানেক পার হলেও কেউ খাতার ব্যাপারে খোঁজ নেয়নি। এর কিছুদিন পরেই ফলাফল দিয়ে দেওয়া হয়। অথচ তখন অদেখা অবস্থায় কয়েক শ খাতা ওই শিক্ষকের বাসায় পড়ে ছিল। এই হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার অবস্থা। ’

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজে শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে মানসম্মত শিক্ষা, বিরাজমান সমস্যা ও করণীয় শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার মানের কোনো শেষ নেই। তিতুমীর কলেজের প্রধান সমস্যা শ্রেণিকক্ষ সংকট, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও এটাই প্রধান সমস্যা। স্থানের সমস্যা আমাদের জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা আমরা করব; কিন্তু এর মধ্যেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নির্দেশে সাতটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়েছে। এখন আমরা এই কলেজগুলোতে গুণগত পরিবর্তন দেখতে চাই। এ জন্য আমাদের যা করণীয় তা করব। তবে শিক্ষকদের সদিচ্ছার অভাবই মানসম্মত শিক্ষার সবচেয়ে বড় অন্তরায়। ’

তিতুমীর কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর মো. আশরাফ হোসেন বলেন, ‘ঘরে ঘরে উচ্চশিক্ষার কনসেপ্টে আমি বিশ্বাসী নই। উচ্চশিক্ষা হওয়া উচিত নির্বাচিত কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য। আর সবার উচ্চশিক্ষা ধারণ করারও যোগ্যতা নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে এখন এইচএসসি পাস করলে যে কেউ অনার্সে ভর্তি হতে পারে। টিনের চাল নেই এমন কলেজেও অনার্স কোর্স রয়েছে। এই অবস্থা হলে কেনোভাবেই মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। উচ্চশিক্ষার অবস্থা এমনই যে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর চেয়েও অনার্সে পাস করা সহজ। ’

সেমিনারে কলেজের চারটি অনুষদ থেকে মানসম্মত শিক্ষার অন্তরায় হিসেবে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। সেখানে শ্রেণিকক্ষ সমস্যা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা, শিক্ষক প্রশিক্ষণের অভাব, গবেষণাহীন উচ্চশিক্ষা, কারিকুলামের দুর্বলতাসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু হায়দার আহমেদ নাছেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. এনামুল হক খান, প্রফেসর ডালিয়া আহমেদ প্রমুখ।


মন্তব্য