kalerkantho


যেভাবে নাক ডাকা বিদায়

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



যেভাবে নাক ডাকা বিদায়

বিরক্তি ও অস্বস্তির বিষয় বাদ দিলেও নাক ডাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটা আপনার দৈহিক সমস্যার জানান দেয়।

নিজের ঘুম তো বটেই, আশপাশের মানুষের ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটায়। গলার ধীরস্থির পেশিগুলোতে কম্পনের কারণে শব্দের সৃষ্টি হয়। এটা নাক বা মুখ গলে বেরিয়ে আসে। নাক ডাকা দূর করার বিষয়ে এখানে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

ঘর আদ্রতাপূর্ণ করুন : নাক ডাকার অন্যতম এক কারণ হতে পারে ঘরের শুষ্ক আবহাওয়া। নাসারন্ধ্রের মেমব্রেন ও গলা দিয়ে শুষ্ক বায়ু মসৃণভাবে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে টিস্যুতে কম্পনের সৃষ্টি হয়। শুরু হয় নাক ডাকা। ইলেকট্রনিক দোকান থেকে একটি হিউমিডিফায়ার কিনুন এবং শয়নকক্ষে চালু করে দিন।

ওজন কমাতে হবে : দেহের বাড়তি ওজনের কারণে স্নোরিং হতে পারে। মোটা দেহ মানেই গলার মধ্যে অনেক বেশি টিস্যু। চলমান বাতাস এসব টিস্যুতে ধাক্কা খায় এবং শব্দ বেরিয়ে আসে। ফল নাক ডাকা।

প্রাণায়াম চর্চা : ইয়োগার একটি আসন রয়েছে যাকে বলা হয় প্রাণায়াম। এর চর্চায় শ্বাস-প্রশ্বাসে নিয়ন্ত্রণ আনা যায়। মনোযোগের সঙ্গে গভীর শ্বাসে ফুসফুস ভরে অক্সিজেন টানা এবং ছাড়ার চর্চায় ব্যাপক উপকার মিলবে। প্রাণায়াম গোটা দেহের রক্তপ্রবাহকে সুষম রাখতে সহায়তা করে। নাক ডাকা থেকে শুরু করে ঘুমের অনেক ধরনের সমস্যা দূর করতেও অব্যর্থ মন্ত্র প্রাণায়াম।

জিহ্বা ও গলার ব্যায়াম : এই দুই স্থানের পেশি শক্তিশালী করতে হবে। তবেই নাক ডাকা থেকে মুক্তি মিলতে পারে। বয়সের সঙ্গে টিস্যুর স্থিতিস্থাপকতা ও শক্তি কমে আসে। এতে করে বাতাসপ্রবাহে এলোমেলো নড়াচড়া করে। বেশ কয়েকটি ব্যায়ামের মাধ্যমে সমস্যা দূর করতে পারেন। যেমন—ক. চোয়ালের নিচের অংশ ওপরের অংশ থেকে সামনের দিকে প্রসারিত করুন এবং আবার আগের স্থানে আনুন। পর পর ১০ বার কাজটি সেরে ফেলুন। দিনে সাত থেকে দশবার করতে পারেন। খ. জিহ্বার ব্যায়াম করতে পারেন কথা বলে। কোনো একটা বাক্য ধীরে ধীরে ১০ বার আওড়ে যান। দিনে সাত থেকে দশবার করুন। গ. জিহ্বা সোজা সামনের দিকে বের করে আনুন। এবার এটিকে ডানে-বাঁয়ে নিন। ঠোঁটের দুই কোণে স্পর্শ করুন এবং আবার সামনের দিকে নিন।  

ধূমপান : ধূমপানের কারণেও এমনটা হতে পারে। ধোঁয়া গেলার কারণে বায়ুপ্রবাহের স্থান সরু হয়ে আসতে পারে।

বালিশটাকে উঁচু করে নিন : ঘুমন্ত অবস্থায় অনেক সময় জিহ্বা ভেতরের দিকে চলে যায় এবং কণ্ঠনালিতে বাধা সৃষ্টি করে। মাথার নিচে একটু উঁচু বালিশ নিন। দুটি বালিশও ব্যবহার করতে পারেন।

বালিশের ধরন : খুব বেশি ফোলা বা একেবারে পাতলা বালিশ ব্যবহার করবেন না। বালিশে মাথা এমনভাবে থাকবে যেন শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় গোলযোগ না হয়। বালিশ ঠিকঠাকমতো হলে নাক ডাকা রোধ হবে।

দুধ ও হলুদ : প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধে দুই চা চামচ হলুদের গুঁড়ো মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এটা নাক ডাকা বন্ধের কার্যকর টোটকা।

এলাচ গুঁড়ো : এক গ্লাস উষ্ণ পানি নিন। এতে আধা টেবিলচামচ এলাচ গুঁড়ো ভালোমতো মিশিয়ে নিতে হবে। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে গিলে ফেলুন। নাম ডাকার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলবে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া : ঘুমের এক মারাত্মক সমস্যার নাম। এর কারণেও নাক ডাকা সমস্যা দেখা দেয়। তবে  স্লিপ অ্যাপনিয়া জীবনঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যদি ওপরের কোনো উপায়ে মুক্তি না মেলে, তবে বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়াই উত্তম।

টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে

 


মন্তব্য