kalerkantho


নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা

গেজেট জারি না করায় সুপ্রিম কোর্টের অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গেজেট জারি না করায়

সুপ্রিম কোর্টের অসন্তোষ

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করতে সরকারকে আবারও দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের আট সদস্যের বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার দুই সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেন।

তবে ১৪ মার্চের মধ্যে গেজেট জারি না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে আদালত বলেছেন, মনে রাখবেন, রাষ্ট্রের কাছে ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড়। প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে হবে। কিন্তু বিধিমালার গেজেট চূড়ান্ত না করে বিচার বিভাগকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।

গতকাল সকালে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গেজেট জারি করতে চার সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেন। তিনি বলেন, আইনমন্ত্রী দেশের বাইরে আছেন। তাঁর ভাই মারা গেছেন। গেজেট জারির বিষয়টি আদালতকে অবহিত করার কথা ছিল। কিন্তু তা পারা যায়নি।

এ সময় আদালত বলেন, এভাবে আর কত? দেশে কি কোনো সরকার আছে? বিধিমালার গেজেট জারি করতে আর কত দিন সময় প্রয়োজন? রাষ্ট্রের তো একটি ফেয়ার প্লের বিষয় রয়েছে। সময় চাওয়ার জন্য একটা যৌক্তিক কারণ থাকতে হবে তো। একেক অজুহাত দেখিয়ে আর কতবার সময় নেওয়া হবে। আদালত বলেন, দেশ কি আটকে আছে? দেশ কি চলছে না? রাষ্ট্রের কাছে ব্যক্তি কিছু নয়, প্রতিষ্ঠানই বড়। বিচার বিভাগকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। এরপর আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে বিচার বিভাগসংক্রান্ত মামলার শুনানি দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেন।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘চার সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছিল। আদালত দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন। আশা করি, এ সময়ের মধ্যে অচলাবস্থা নিরসন হবে। ’

এর আগে গেজেট জারি করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি আবেদন করে। এ আবেদনে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে আদালত ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গেজেট জারি করতে বলেন। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আবারও দুই সপ্তাহ সময় দেন আদালত। তখন ১৪ মার্চের মধ্যে গেজেট জারি করতে বলা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ গতকাল নির্ধারিত দিনে আবারও সময়ের আবেদন করলে আদালত দুই সপ্তাহ সময় দেন।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় বিধিমালার একটি খসড়া তৈরি করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। ওই বিধিমালা সংশোধন করে দেন আপিল বিভাগ। এরপর খসড়া পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। গত বছরের ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ এ বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করে তা দাখিল করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই বছরের ৬ নভেম্বরের মধ্যে এ গেজেট আদালতে দাখিল করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত বছর ৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ গেজেট জারির জন্য আরো আট সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করে। আদালত একই বছরের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময় দেন। রাষ্ট্রপক্ষ আরো সময় চেয়ে কয়েক দফা আবেদন করে। আদালত সময় দেন। সর্বশেষ গত বছর ৮ ডিসেম্বর এক আদেশে  দুই সচিবকে তলব করেন আপিল বিভাগ। তাঁদের ১২ ডিসেম্বর হাজির হতে বলা হয়।

আদালতের আদেশে নির্ধারিত দিনে হাজির হন আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব। তাঁরা রাষ্ট্রপতির একটি প্রজ্ঞাপন নিয়ে হাজির হন। ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গেজেট জারির প্রয়োজন নেই। আপিল বিভাগ বলেন, এটা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্ন। এখানে কোনো আপস নেই।

এ অবস্থায় আদালত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট জারির নির্দেশ দেন। কিন্তু গেজেট জারি না করে একের পর এক সময়ের আবেদন করছে রাষ্ট্রপক্ষ।


মন্তব্য