kalerkantho


নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিরা লাট বনে যান : রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল ও কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নির্বাচিত হয়ে জনপ্রতিনিধিরা লাট বনে যান : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গতকাল কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম রোটারি ডিগ্রি কলেজের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ছবি : পিআইডি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, “আমাদের দেশটা যেন কেমন হয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের যে ‘ভাব’ থাকে, নির্বাচিত হলে তাঁদের ‘ভাব’ কেমন হয়ে যায়।

তাঁরা মনে করেন যেন ‘বঙ্গের লাট’ হয়ে গেছি। কেউ কেউ মনে করেন, মেম্বার, চেয়ারম্যান বা এমপি হয়ে সাংঘাতিক ক্ষমতার মালিক হয়ে গেছি। নির্বাচনের আগে ও পরে আপনাদের ব্যবহার, চলাফেরা, আচরণ এক রকমই থাকা উচিত। ” গতকাল মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রপতি অষ্টগ্রাম ডাকবাংলা মাঠের সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্র চলে আমার অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির নামে। আমি তো দেখি আমার কোনো ক্ষমতাই নেই। মন্ত্রী-মিনিস্টারদের ও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের কাছে অনুরোধ করে দুর্গম এলাকার জন্য কিছু টাকা-পয়সা এনে কাজকর্ম চালাই। তাহলে ক্ষমতাটা কোথায়! সত্যিকার অর্থে কারোর কোনো ক্ষমতা নেই।

তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করা যায়। কিন্তু যদি বিবেক-বিবেচনা, যুক্তিতর্ক দিয়ে কাজকর্ম ও চলাফেরা করা যায় সেটাই আসল ক্ষমতার জায়গা। ’

নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমি তো রাষ্ট্রপতি হয়েছি। কিন্তু তিন উপজেলায় এমন কোনো মানুষ বলতে পারবে না যে ক্ষমতা খাটিয়ে কারোর বারোটা বাজিয়েছি। আমরা যাঁরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, আমাদের সততার সঙ্গে চলতে হবে। পয়সা খরচ করে নির্বাচনে জয়লাভ করাও ঠিক না, আবার জয়লাভ করে কাজের বিনিময়ে জনগণের কাছ থেকে পয়সা নেওয়াও ঠিক না। ’

তাঁর মতে, ‘আমাদের দেশে দুর্নীতি একটা বড় ফ্যাক্টর। দুর্নীতি হচ্ছে। এ দুর্নীতি রোধ করতে হবে। দুর্নীতি রোধ করতে হলে জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি থেকে সরে আসার শপথ নিতে হবে। বলতে হবে, ‘আমরা দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতি করতে দেব না। ’ এটা করতে পারলে আমাদের দেশ উন্নত হবে। তাই সব নির্বাচনে সৎ মানুষকে ভোট দেওয়া উচিত। ’   

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের সারা অঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেব কোথা! হাওরে নদী শুকিয়ে যায়। অন্যদিকে আছে নদীভাঙন। অনেক গ্রামে বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। শত শত কোটি টাকা এ জন্য খরচ করতে হয়। আসলে এসব কাজে যে টাকা আমি এনেছি, যদি ডুবো এলাকা না হতো তাহলে হাওর এলাকার সব রাস্তাঘাট করে মানুষের বাড়িঘরও বানিয়ে দিতে পারতাম। কিন্তু এত টাকা এনেও কোনো কূলকিনারা পাচ্ছি না। হাওরের মানুষ যেন সহজেই চিকিৎসা নিতে পারে সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ’

লাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এর পরও সমস্যার শেষ নেই। হাসপাতালে সুন্দর সুন্দর বিল্ডিং আছে। দুঃখজনক ব্যাপার, নার্স আছে কিন্তু ডাক্তার নেই। একটা লোকের হার্ট অ্যাটাক করলে বাজিতপুর হাসপাতালে নিতে নিতে রোগী মারা যায়। চিকিৎসার দিক থেকে হাওরের মানুষ খুবই অবহেলিত। এ দিকটায় সরকারের খেয়াল রাখা উচিত। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি সরকারকে অনুরোধ করছি। ’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘অত্যন্ত অবহেলিত ও অনুন্নত হাওর অঞ্চল। বর্ষাকালে আমাদের অবস্থা আরো খারাপ। এক সময় বর্ষাকালে মানুষ মরলে ভাসিয়ে দেওয়া হতো। তখন থেকেই হাওরকে উন্নত করার ইচ্ছা জাগে। সে সময় কলেজ দূরের কথা, হাইস্কুল ছিল হাতে গোনা। ম্যাট্রিক পাস লোক কম পাওয়া যেত। মুষ্টিমেয় কিছু পরিবারের মানুষ সরকারি চাকরি করত। তারা সাধারণ মানুষকে নিয়ে চিন্তা করত না। ’

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন, কিশোরগঞ্জ-২  আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

এর আগে দুপুর ২টার দিকে রাষ্ট্রপতি অষ্টগ্রাম রোটারি ডিগ্রি কলেজের ২৫ বছর পূর্তি তথা রজত জয়ন্তী উৎসবে যোগ দেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্য দুই সংসদ সদস্যের পাশাপাশি স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ মুজতবা আরিফ খান।


মন্তব্য