kalerkantho


মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক

নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন চান জাতিসংঘ দূত

মেহেদী হাসান   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মিয়ানমারের হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য নতুন করে আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার (বিশেষ দূত) ইয়াংহি লি। গতকাল সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপনের সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

এ বছরের শুরুতে মিয়ানমার ও গত মাসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেছেন ইয়াংহি লি। গতকাল তিনি তাঁর প্রতিবেদনে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে সম্ভাব্য সব কিছুই করা উচিত। মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি মিয়ানমারের সবাই সত্য জানার অধিকার রাখে। ’

ইয়াংহি লি বলেন, ‘মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করা নাগরিকসমাজের কর্মীদের সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হত্যার অনেক ঘটনা বিশেষভাবে উদ্বেগের। এ ছাড়া অনেক বছর ধরে ন্যায়বিচারের দাবিতে অপেক্ষমাণ স্বজনদের প্রিয়জন হারানোর ঘটনাগুলোর এখনো সুরাহা হয়নি। এসব অনেক ঘটনা ব্যবসায়িক বা সামরিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ’

মিয়ানমারের সংবিধানবিষয়ক আইনজীবীদের অন্যতম ইউ কো নির নির্মম হত্যাকাণ্ডে ইয়াংহি লি বিশেষভাবে বিরক্ত। ইউ কো নিকে গুলি করে হত্যার সময় তিনি তাঁর নাতির হাত ধরে ছিলেন।

ইয়াংহি লি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সেখানে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়ন বাড়ছে।

বাংলাদেশ সফরে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে ইয়াংহি লি বলেন, ‘ঠোঁট কেটে ফেলা, নির্বিচার গুলি, লোকজনকে আটকে রেখে বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, ছোট্ট শিশুদের আগুনে নিক্ষেপের পাশাপাশি দল বেঁধে ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন সহিংসতার অভিযোগ আমি শুনেছি। ’

জাতিসংঘ দূত বলেন, ‘বাংলাদেশ সফরের পর মিয়ানমার সরকারের বক্তব্যে আমি কিছুটা হতাশ হয়েছি। কারণ মিয়ানমার সরকার তখন আমাকে পক্ষপাতী বলা শুরু করেছে। তবে বাংলাদেশ সফরে আমার মূল লক্ষ্য ছিল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা। ’

ইয়াংহি লি মিয়ানমারের অন্য অংশগুলোতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে মানবাধিকার কাউন্সিলের জরুরি আলোচনা ও তদন্তের ডাক দেন। তিনি জানান, এখনো তিনি মিয়ানমার থেকে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পাচ্ছেন। অনেক ঘটনার তদন্ত হয়নি। পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে গেলেও সেগুলো কর্তৃপক্ষের নজরে তেমন আসছে না।

জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেন, ‘কাচিন ও শান রাজ্যে সংঘাত বাড়ায় তিনি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এসব সংঘাত ওই এলাকাগুলোতে বেসামরিক জনগণের ওপর নাটকীয় প্রভাব ফেলেছে। ’

ইয়াংহি লি বলেন, কোকাং স্বশাসিত অঞ্চল থেকে গত সপ্তাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তিনি বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘসহ অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতার সমালোচনা করেন।


মন্তব্য