kalerkantho


৯ মার্কেটের পার্কিংয়ে অবৈধ ২৩৫০ দোকান

অদৃশ্য কারণে আটকে আছে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অদৃশ্য কারণে আটকে আছে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৯টি মার্কেটের ১১টি ভবনের কার পার্কিংয়ের স্থানে অবৈধভাবে নির্মিত দুই হাজার ৩৫০টি দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। গুলিস্তান, কাপ্তানবাজার, ফুলবাড়িয়া, পল্টন ও পুরানা পল্টন এলাকায় এসব মার্কেট অবস্থিত। দোকানগুলো অপসারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী উচ্ছেদ প্রস্তাবও পাস হয়েছে। এরই মধ্যে প্রস্তাব পাস হওয়ার ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। অবৈধ এসব দোকান উচ্ছেদ না হওয়ার নেপথ্যে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ আর মার্কেটের একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত সচিব) খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, ‘উচ্ছেদের ব্যাপারে আমাদের দাপ্তরিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। উচ্ছেদ এখন সময়ের ব্যাপার। ’ তবে উচ্ছেদ কবে হতে পারে সে ব্যাপারে তিনি সরাসরি কিছু বলতে রাজি হননি।

ডিএসসিসির ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন রতন বলেন, ‘বেইসমেন্ট বা কার পার্কিং উদ্ধার করে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। ডিএসসিসির সব মার্কেটের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করে সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করতে আমি বোর্ডের সভায় বারবার তাগাদা দিয়ে যাচ্ছি, চিঠিপত্রও দিয়েছি।

এরই মধ্যে কিছুটা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বন্ধ হয়ে গেছে। বেইসমেন্টে থাকা একাধিক ব্যবসায়ী না বুঝে অনেককেই অর্থ দিচ্ছে উচ্ছেদ ঠেকাতে। কিন্তু এসব করে খুব একটা কাজ হবে না। এটা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত। ’

ফরিদ উদ্দিন রতন আরো বলেন, ‘গুলিস্তান, কাপ্তানবাজার, পল্টন ও ফুলবাড়িয়া এলাকার মার্কেটগুলোর সামনের রাস্তায় অবৈধভাবে শত শত গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়। এতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। করপোরেশন ইচ্ছা করলে তা দূর করতে পারে। এ ছাড়া আইন অনুযায়ী পার্কিংয়ের স্থানে দোকান রাখার কোনো সুযোগ নেই। এখন কে বা কারা এসব রক্ষা করতে কাজ করছে তা খতিয়ে দেখা উচিত। ’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন কাউন্সিলর বলেন, ‘ডিএসসিসি যানজটমুক্ত নগরী গড়তে কাজ শুরু করেছে। সেই লক্ষ্যে কিছু কাজও হাতে নিয়েছে। পুরাতন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কিন্তু নিজেদের যেসব ভবনের পার্কিংয়ের স্থানে দোকান তা উচ্ছেদ করছে না। বিষয়টি কিছুটা সাংঘর্ষিক মনে হচ্ছে।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘সিটি করপোরেশন রাজধানীর যানজট নিরসনে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। তাদের উচিত হবে কার পার্কিংয়ের জায়গা আগে উদ্ধার করা। নিজেদের কাজটুকু না করে অন্য কাজে হাত দিলে সেটা ভালো দেখায় না। ’

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, তাদের ৯টি মার্কেটের ১১টি ভবনের কার পার্কিংয়ের জায়গায় অবৈধভাবে নির্মিত দোকানগুলো ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মার্কেট সমিতির সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। এগুলোর বেশির ভাগেরই পজেশন বিক্রি করা হয়েছে। ১০ থেকে ২০ লাখ টাকায় এসব দোকান কিনে নিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা। গত বছরের শুরু থেকে কার পার্কিং মুক্ত করতে ডিএসসিসি কাজ শুরু করলে পজেশন কিনে নেওয়া ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, তাঁরা না বুঝে এসব দোকান ক্রয় করেছেন। এখন এগুলো উচ্ছেদ করলে তাঁদের পরিবার নিয়ে রাস্তায় বসতে হবে। তাই নিজেরা সব দোকান থেকে টাকা তুলে একটি বড় অর্থের তহবিল গঠন করেছেন। তা দিয়ে উচ্ছেদ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, তাদের মালিকানাধীন ৯টি মার্কেটে গাড়ি রাখার স্থানে মোট দুই হাজার ৩৫০টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট-১-এ ৬৮টি, ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট-২-এ ৫৩১টি, পল্টন শপিং কমপ্লেক্সে ১৯টি, আহসান মঞ্জিল (নবাববাড়ি) সুপারমার্কেটে ১৪৯টি, সুন্দরবন স্কয়ার সুপারমার্কেটে ২৩০টি, ঢাকা ট্রেড সেন্টারে ৩৪১টি, কাপ্তানবাজার কমপ্লেক্সে-১-এ ৩৫০টি ও কমপ্লেক্স-২-এ ৩৬৬টি দোকান রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব বৈধ দোকানের বরাদ্দ বাতিলসহ গাড়ি রাখার স্থানে থাকা সব দোকান উচ্ছেদের ফাইল প্রায় ছয় মাস আগে অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু ফাইল পাস হয়ে পড়ে থাকলেও এখন তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ’


মন্তব্য