kalerkantho


মিঠাপুকুরে স্কুলের জমি দখল করে ক্লাব দোকানঘর!

রংপুর অফিস   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মিঠাপুকুরে স্কুলের জমি দখল করে ক্লাব দোকানঘর!

রংপুরের মিঠাপুকুরে পদাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের জমি অবৈধভাবে দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে ক্লাব ও দোকনঘর। ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের মিঠাপুকুরে পদাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কোটি টাকার জমি দখল করে ক্লাব ও দোকানঘর তৈরি করেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। দোকানঘরগুলো প্রায় ২০ লাখ টাকায় স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতির নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চলছে।

এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদাগঞ্জ বাজারের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পদাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের জমি দখল করে শাপলা সংঘ নামের একটি ক্লাবের ঘর তৈরি করা হয়েছে। এর পাশেই তৈরি করা হচ্ছে মার্কেট। এ মার্কেটের দোকানঘর ব্যবসায়ীদের কাছে স্থায়ীভাবে বিক্রি করে দিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তারা দোকানঘর বিক্রি বাবদ প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

জানা গেছে, জমি দখল করলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না ক্লাব কর্তৃপক্ষের ভয়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, শাপলা সংঘের সদস্যরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা জোর করে স্কুলের ওই জমি দখল করেছে।

কিন্তু চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া তাঁদের কিছু করার উপায় নেই।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাপলা সংঘের আহ্বায়ক কমিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ৫ শতক জমিতে ক্লাব কার্যালয় ও মার্কেট তৈরি করেছে। কমিটির আহ্বায়ক হলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ফিদ্দু মিয়া। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আল-মামুন, রোস্তম আলী, সাজু মিয়া, খাদেমুল হক, বিপ্লব মিয়া, রবিউল ইসলামসহ প্রায় ১৫ জন। দোকানঘর কিনেছেন এমন কয়েক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্লাবের লোকজন দোকনঘর নির্মাণ করে তাঁদের কাছে বিক্রি করেছে। তবে টাকা দেওয়ার পরও তাঁদের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

এলাকার আমজাদ হোসেন, মজিবর রহমান ও হাবিবুর রহমান জানান, ফিদ্দু মিয়ার নেতৃত্বে দখল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই ৫ শতক জমির বর্তমান মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী চাপের মুখে রয়েছে। এর আগে ওই ক্লাবের লোকজন পদাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরীক্ষা চলার সময়ে জোর করেই মেলা আয়োজন করে। সেখানে সার্কাস, লটারি ও জুয়ার আসরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভণ্ডুল করে দিয়েছিল।

পদাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহবুবা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। হঠাৎ করে ওই জমিতে ক্লাবঘর ও মার্কেট নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে শাপলা সংঘের আহ্বায়ক ফিদ্দু মিয়া বলেন, ‘পদাগঞ্জ বাজারে ওই ৫ শতক জমি আমাদের। তাই আমরা ক্লাব ও দোকানঘর নির্মাণ করেছি। তবে সরকারিভাবে মাঠ রেকর্ডে ওই জমিতে আমাদের নাম আসেনি। তাই দখলদার হিসেবে ক্লাব ও দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পদাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি মামুন-অর-রশীদ বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য বলেছি। তার পরও যদি নির্মাণকাজ অব্যাহত থাকে তাহলে জমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’


মন্তব্য