kalerkantho


ঢাকায় গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকায় গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

ইনস্টিটিউট করার দাবিতে গতকাল দুপুরে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউটের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে রাজধানীর নীলক্ষেত-নিউ মার্কেট মোড় চার ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানোর পর আজ মঙ্গলবার আবারও একই কর্মসূচি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে কলেজটির শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে নানা ধরনের স্লোগান দেয়। দুপুর সোয়া ১টার দিকে পুলিশের লালবাগ জোনের ডিসি ইব্রাহীম খান শিক্ষার্থীদের সামনে জনদুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে অবরোধ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি আজিমপুর, পলাশী, নীলক্ষেত হয়ে কলেজের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

মিছিল শেষে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী ইশরাত জাহান পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আবারও নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেবে শিক্ষার্থীরা।

তিনি আরো বলেন, ‘আন্দোলনকারী ছাত্রীদের অভিভাবকদের শিক্ষকরা ফোন করে তাঁদের সন্তানকে কলেজ থেকে বহিষ্কারের হুমকি দিচ্ছেন। আমরা এই হুমকিতে ভয় পাই না।

আমরা আমাদের দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না। ’

অবরোধ চলাকালে নীলক্ষেত হয়ে সব রুটের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গণপরিবহনগুলো বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করলে নীলক্ষেত মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ মার্কেটের ১ নম্বর গেট ও আজিমপুর এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শামীমা সোমা বলেন, ‘আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাব। এ বিষয়ে আমরা ছয় মাস আগেই শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। সে সময় তাঁরা আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন। কিন্তু তাঁরা কোনো কথা বলেননি। তাই তাঁদের কোনো আশ্বাস আমরা আর শুনব না। ’

কলেজের অধ্যক্ষ ফাতেমা সোরাইয়া বলেন, ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছে। এর ফলে প্রথম বর্ষের একটি পরীক্ষা স্থগিতও করা হয়েছে। তাদের শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নিয়ে যাওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছি। এখানে শিক্ষকদের কিছু করার নেই। আমরা শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। ’

প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ঢাবির পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউটের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের একপর্যায়ে কলেজের ছাত্রীরা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে দেখা করে। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। শিক্ষাসচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়।


মন্তব্য