kalerkantho


ওবায়দুল কাদের বললেন

ওলামা লীগের মতো দোকান বন্ধ করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নিজেদের আওয়ামী লীগের সমর্থক দাবি করে গড়ে ওঠা ওলামা লীগের মতো সংগঠনগুলোকে ‘দোকান’ আখ্যায়িত করে তা বন্ধ করে দিতে বলেছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা কোনো দিনও কারো সঙ্গে চুক্তি করবেন না।

গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে জাতীয় শ্রমিক লীগের সমাবেশে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় দেখলাম আওয়ামী প্রচার লীগ, আওয়ামী ওলামা লীগ, প্রজন্ম লীগ। এই যে রাজনীতির নামে কিছু কিছু দোকান খোলা হয়েছে, এই দোকানগুলো বন্ধ করতে হবে। ’

কোনো কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের বিতর্কিত সব দাবির প্রতি ওলামা লীগের সমর্থনসূচক বক্তব্যও আসছে।

এ ধরনের ভুঁইফোড় সংগঠনগুলোকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না এবং এগুলো বন্ধ করে দিতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যে কয়টি স্বীকৃত সহযোগী আছে, তার বাইরে অন্য কোনো সংগঠন বঙ্গবন্ধুর ছবি, নেত্রীর ছবি, জয়ের ছবি এবং আমাদের নেতাদের ছবি ব্যবহার করলে এদেরকে প্রতিরোধ করুন। ’

ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন রাখেন, ‘জাতীয় শ্রমিক লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার কী দরকার? কোনো দরকার নেই। কিংবা কৃষক লীগের কাতার শাখার কী দরকার? কৃষক লীগের গুলশান শাখার কী দরকার? কিংবা ধানমণ্ডি শাখার কী দরকার? তাঁতী লীগও আছে, কাতার শাখার নেতা।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘শেখ হাসিনা এখনো ভারত যাননি। তিনি যাবেন এপ্রিলে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ঘোষণা হয়নি। এর আগেই বিএনপি গোপন চুক্তির গন্ধ পাওয়ার ভাঙা রেকর্ড বাজানো শুরু করেছে। আসলে বিএনপির ক্ষমতার জন্য ভারতপ্রীতি, আর ক্ষমতা থেকে চলে গেলে ভারতভীতি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ভারতপ্রীতিও নেই, ভারতভীতিও নেই। ভারত আমাদের দুঃসময়ের বন্ধু, বাংলাদেশের স্বার্থে এ বন্ধুত্ব থাকবে। দেশের জনগণ না চাইলে এ বন্ধুত্ব থাকবে না। ’

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো চুক্তি হলে, তা জাতীয় স্বার্থেই হবে। জাতীয় স্বার্থকে বিকিয়ে শেখ হাসিনা কোনো দিন কারো সঙ্গে চুক্তি করবেন না। ’ জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ প্রমুখ।


মন্তব্য