kalerkantho


স্কুল ছাত্র আদনান হত্যা

আরো দুজন গ্রেপ্তার স্বীকারোক্তি

আদালত প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানীর উত্তরায় স্কুল ছাত্র আদনান কবির হত্যায় জড়িত সন্দেহে আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী থানাধীন পাগাড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তারা হলো নুরে আলম ও করিম মিয়া। দুজনই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

গতকাল রবিবার ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক শাহীন মিয়া। এক প্রতিবেদন দাখিল করে তিনি বলেন, ‘আটক হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। আদালতেও তারা স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হোক। ’

পরে পৃথক মহানগর হাকিম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামিদের স্বেচ্ছায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।  

তাদের মধ্যে ঢাকার মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের খাসকামরায় নুরে আলম জবানবন্দি দেয়। আর হাকিম আবদুল্লাহ আল মাসুদের খাসকামরায় জবানবন্দি দেয় আসামি করিম মিয়া।

সিএমএম আদালতে কর্মরত সংশ্লিষ্ট থানার জিআরও (সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা) এসআই রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গোপন রাখা হয়েছে।  

মামলায় এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ১৩ জন।

গত ৬ জানুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডের ১৫ নম্বর বাড়ির সামনে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্ক্রু ঢুকিয়ে হত্যা করা হয় আদনান কবিরকে। এ ঘটনায় পরের দিন আদনানের বাবা কবির হোসেন উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, আধিপত্য নিয়ে প্রথমে ‘নাইনস্টার’ ও ‘ডিসকো বয়েজ’ গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ জানুয়ারি উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ব্রিজের ওপর ডিসকো বয়েজ ও বিগবস গ্রুপের সদস্যরা নাইনস্টার গ্রুপের দলনেতা রাজুকে মারধর করে। জবাবে ৫ জানুয়ারি আজমপুর ফুট ওভারব্রিজের গোড়ায় নাইনস্টার গ্রুপের সদস্যরা বিগবস গ্রুপের ছোটনকে আক্রমণ করে। এর পর থেকেই রাজুকে হত্যার পরিকল্পনা করে ডিসকো গ্যাং ও বিগবস গ্রুপ; যার শিকার উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবির।


মন্তব্য