kalerkantho


প্রধানমন্ত্রী বললেন

উন্নয়নকাজে গাফিলতি সহ্য করা হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



উন্নয়নকাজে গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি দুর্নীতি করতে, কমিশন খেতে, ব্যবসা করতে ক্ষমতায় আসিনি। উন্নয়নকাজে কেউ গাফিলতি করলে সহ্য করব না। অপকর্ম যদি কেউ করে, সে যেই হোক, তাকে ছাড়ব না। জনগণের সেবাই আমার কাজ। ’

গতকাল রবিবার বিকেলে নগরের পতেঙ্গা বোট ক্লাব প্রাঙ্গণে ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’ প্রকল্প আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পদ্মা সেতুর বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক আমাকে অনেক যন্ত্রণা দিয়েছে। শুধু আমাকে নয়, আমার বোন, ছেলে-মেয়ে, ছেলের বৌ, মন্ত্রী, সচিব, উপদেষ্টা—সবাইকে যন্ত্রণা দিয়েছে। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলাম। আজ প্রমাণ হয়েছে, বিশ্বব্যাংক মনগড়া, বানোয়াট অভিযোগ করেছিল। ’

এর আগে চট্টগ্রাম নগর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরায় কর্ণফুলী নদীর তীরে সাড়ে ৩৫ একর জমির ওপর নির্মিত ‘শেখ হাসিনা পানি শোধনাগার’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমানে এই শোধনাগার থেকে চট্টগ্রাম নগরে প্রতিদিন ১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌবাহিনীর ঈসা খাঁ ঘাঁটিতে চীন থেকে কেনা ‘জয়যাত্রা’ ও ‘নবযাত্রা’ নামের দুটি সাবমেরিন কমিশনিং অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ওই অনুষ্ঠান শেষে সড়কপথে তিনি বোট ক্লাব প্রাঙ্গণে আসেন।

চট্টগ্রামে বেহাল সড়ক দেখে ক্ষোভ : নৌঘাঁটি থেকে বেরিয়ে ১১ নম্বর রোড (এয়ারপোর্ট রোড) ধরে বোট ক্লাবে আসার পথে বেহাল সড়ক দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বন্দর নগরীর বেহাল এই সড়কে দুটি খালের ওপর সেতু ভেঙে রয়েছে। ওই রাস্তায় যান চলাচল করতে হচ্ছে সরু একটি বেইলি সেতু দিয়ে।

পানি শোধনাগার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী সড়কের বেহাল নিয়ে কথা বলেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকারের নানা কার্যক্রমের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে আজকে আমি নেভাল থেকে এখানে আসার পথে রাস্তাঘাটের যা অবস্থা দেখেছি, তাতে খুব দুঃখ পেয়েছি। আমি জানি না রাস্তার এ দুরবস্থা কেন। বড় বড় গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে। ব্রিজের কাজগুলোও সম্পন্ন করা হয়নি। ’

২০১৫ সালেও এই রাস্তার একই অবস্থা দেখে তা সংস্কার করতে বলে যাওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন আমি আমার সামরিক সচিব আবেদিনকে (মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিন) বলেছিলাম, তুমি তো চট্টগ্রামের লোক, রাস্তাঘাটের এ দুরবস্থা কেন, খবর নাও। সে খবর নিয়ে বলেছিল, দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। তখন ছিল ২০১৫ সাল, ২০১৭ সালে এসেও দেখি রাস্তাঘাটের অবস্থা আগের মতোই আছে। ’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মেয়রের কাছে জানতে চাইলাম, কাজগুলো শেষ করা হয়নি কেন? এগুলো তো এলজিইডি ও সিটি করপোরেশনের দায়িত্বে। এগুলোয় জাইকা সহযোগিতা করছে। জাইকা কাজ সম্পন্ন করতে দেরি করে, এ রকমটা আমার জানা নেই। এটা কেন হচ্ছে সেটা অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিরোধী দলে থাকা সত্ত্বেও মহিউদ্দিন চৌধুরী তখন নির্বাচনে জিতেছিল। চট্টগ্রামে রাস্তাঘাটসহ যত উন্নয়ন সেগুলো হয়েছে মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলেই, সেটা বাস্তব কথা। ’


মন্তব্য