kalerkantho


বঙ্গভবনের বাজারের টাকা ছিনতাই তিন বছর পর ফের আটক আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বঙ্গভবনের বাজার করার টাকা ছিনতাই ঘটনায় পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টিম। প্রায় তিন বছর পর গত শনিবার গভীর রাতে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকা থেকে সোহাগ ওরফে ছালাম নামের ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলোচিত এ ঘটনায় জড়িত থাকার ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দিয়েছে সোহাগ।  

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ২৭ জানুয়ারি দুপুরে বাজার করার ৪৯ হাজার টাকা নিয়ে বঙ্গভবন থেকে বের হয়েছিলেন সার্জেন্ট রিয়াজ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন স্টাফ আমিরুল ইসলাম। রিকশাযোগে কপ্তান বাজারের দিকে যাওয়ার সময় টয়েনবি সার্কুলার রোডে তাঁরা ছিনতাইয়ের শিকার হন। চার-পাঁচজন ছিনতাইকারী তাঁদের গতিরোধ করে টাকা ছিনিয়ে নেয়।

পিবিআইয়ের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. বশির আহমেদ জানান, মামলা হলে সে সময় পুলিশ মনোয়ার হোসেন মুন্না, সুলতান ও সোহাগ ওরফে ছালামকে গ্রেপ্তার করেছিল। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ১৫ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়। এরপর সোহাগ জামিনে বেরিয়ে আর আদালতে হাজিরা দেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে সোহাগকে গ্রেপ্তারের জন্য মাঠে নামে পিবিআই।

শনিবার গভীর রাতে তাকে কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পিবিআই জানায়, থানা পুলিশের পর চাঞ্চল্যকর মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে শুধু মনোয়ার হোসেন মুন্না নামের আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। বাদীর নারাজির পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটির তদন্তভার পায় ডিবি। ডিবির তদন্তে পলাতক আসামি সোহাগের সঠিক ঠিকানা না পেয়ে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এ অবস্থায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পিবিআইয়ের ওপর তদন্তভার দেন।

কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ এ ঘটনা ছাড়াও পেশাদার অপরাধী হিসেবে তার ছিনতাই কর্মকাণ্ডের নানা তথ্য জানিয়েছে। সাত-আট বছর বয়সে সে বরগুনার বেতাগীর আলম বুনিয়া গ্রাম থেকে ঢাকায় আসে। সদরঘাট লঞ্চঘাট টার্মিনাল এলাকায় আশ্রয় নিয়ে টোকাই হিসেবে কাজ করছিল। একপর্যায়ে টার্মিনাল এলাকায় চুরি শুরু করে। পরে কয়েকজন মিলে ছিনতাই শুরু করে। মনির নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ছিনতাই কৌশল শিখেছিল সে। কখনো ধরা পড়ে জেলে গেলে মনির তাদের জামিনের ব্যবস্থা করত।

 


মন্তব্য