kalerkantho


রাজন হত্যা মামলা

ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ১১ এপ্রিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের

রায় ১১ এপ্রিল

সিলেটে শিশু রাজন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালতে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। গতকাল রবিবার শুনানি শেষ হওয়ার পর উচ্চ আদালত আগামী ১১ এপ্রিল রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন।

এদিকে গতকাল উচ্চ আদালতে পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ঐশী রহমানের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।

বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ দুটি মামলার শুনানি গ্রহণ করেন।

রাজন হত্যা মামলা : ২০১৫ সালে ৮ জুলাই চুরির অপবাদ দিয়ে সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকার বাদেয়ালি গ্রামের সবজি বিক্রেতা শিশু সামিউল আলম রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন শেখপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এরপর রাজনের লাশ গুম করার সময় ধরা পড়ে একজন। শিশুটিকে নির্যাতনের ভিডিও চিত্র ফেসবুকে দেওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়। হত্যার ঘটনা পুলিশ বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় মামলা করে। এ মামলায় দ্রুত বিচার শেষে একই বছরের ৮ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন নিম্ন আদালত। রায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড, একজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার দুই দিন পর ১০ নভেম্বর নিম্ন আদালত থেকে সব নথিসহ ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। আসামিপক্ষও আপিল করে। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ মামলার পেপারবুক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। এরপর আলোচিত এ মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য গত বছরের ৩১ অক্টোবর কার্যতালিকায় আসে।

রাজন হত্যা মামলাটি গত ৩০ জানুয়ারি থেকে শুনানি শুরু হয়ে গতকাল শেষ হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম আবুল হোসেন, বেলায়েত হোসেন, মো. শাহরিয়ার ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী। এ ছাড়া পলাতক দুই আসামির পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাসনা বেগম।

পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রী হত্যা মামলা : রাজধানীর চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন মাহফুজুর রহমানের ভাই মশিউর রহমান বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই নিহত দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমান পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে তাঁর মা-বাবাকে নিজেই খুন করার কথা স্বীকার করেন। এ মামলায় ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালত ঐশীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার দায়ে ঐশীর এক বন্ধু মিজানুর রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ঐশীর আরেক বন্ধু আসাদুজ্জামান জনিকে খালাস দেওয়া হয়। এ রায়ের কপি ওই বছরের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টে পৌঁছে। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন দ্রুত মামলার পেপারবুক প্রস্তুত করে। এরপর শুনানির জন্য গত বছরের ৩০ নভেম্বর কার্যতালিকায় আসে।


মন্তব্য