kalerkantho


হঠাৎ বৃষ্টিতে পানিবন্দি কক্সবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



বসন্তের হালকা বৃষ্টিতেই পর্যটন শহর কক্সবাজারে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। প্রধান সড়ক ডুবে কার্যত পানিবন্দি শহর। রাস্তায় থইথই পানিতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। এ অবস্থায় পৌরবাসীর চেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পর্যটকরা। শিগগিরই এই সংকট থেকে মুক্তির আশ্বাস দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কেউ।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটি অনেক আগেই শহরে নালা-নর্দমা দখলকারী ১২৯ জনের তালিকা তৈরি করেছে। দুই বছর আগে তালিকাটি পৌরসভাকে হস্তান্তর করে উচ্ছেদের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। এখনো এর সমাধান না হওয়া দুঃখজনক।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন, নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পৌরসভার। এ ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা চাইলে তা দিতে প্রস্তুত।

নাগরিকদের দুর্ভোগ লাঘবে সবাইকেই ভূমিকা রাখতে হবে। ’

কক্সবাজারে তিন দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল রবিবার ভোর থেকে বৃষ্টি শুরু হলে দুপুরের আগেই হাঁটুপানিতে ডুবে যায় শহরের প্রধান সড়ক। ড্রেন বন্ধ হয়ে থাকার পাশাপাশি কিছু এলাকা দখলদারদের কবজায় থাকায় পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। যেখানে পানি নামছে সেখানেও কাদায় একাকার পুরো এলাকা। পানি জমে থাকা এলাকা দিয়ে রিকশা, ইজি বাইক (টমটম), সিএনজি অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন চলতে পারছে না। ফুটপাত ডুবে থাকায় হেঁটে চলাচলও বন্ধ। শহরের বৌদ্ধ মন্দির সড়ক, গোলদীঘির পাড়, হাসপাতালসংলগ্ন সড়কে বিস্তর কাদা। সাগরপারের পর্যটন জোন কলাতলী সড়কে পাহাড়ের মাটি আর আবর্জনায় একাকার। শহরের এই দুরবস্থায় পৌরবাসী ক্ষুব্ধ জনপ্রতিনিধিদের ওপর।

শহরের এন্ডারসন রোডের বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কালের কণ্ঠকে বলেন, সামান্য বৃষ্টির পানিতেই কাদা-মাটিতে অচল হয়ে যায় শহরের সড়কগুলো। এ জন্য দায়ী জনপ্রতিনিধিরা। কেননা তাঁরা নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করেন না। বেশির ভাগ নালার জায়গা বেদখল হয়ে গেছে, তা উদ্ধারেরও কোনো চেষ্টা নেই।


মন্তব্য