kalerkantho


চাঁদাবাজি ও ছবি ব্যবহারে কঠোর নির্দেশ

সিলেট অফিস   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চাঁদাবাজি ও ছবি ব্যবহারে কঠোর নির্দেশ

আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই তৃণমূলকে ঐক্যবদ্ধ করতে সিলেটে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন।

প্রায় ১৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্মেলন ঘিরে এখন সক্রিয় সিলেট আওয়ামী লীগ। উৎসবের আবহে প্রায় প্রতিদিনই ওয়ার্ড, থানাসহ বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে সভা ও প্রচার।

এদিকে সিলেট আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মীদের সম্মেলনের নামে চাঁদাবাজি থেকে বিরত থাকার জন্য এবং সম্মেলন উপলক্ষে টানানো বিল বোর্ডে বঙ্গবন্ধু ও দলীয় প্রধানের ছবি ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ বিভাগীয় সম্মেলন হয়েছিল ২০০২ সালে। তখন দলটি ছিল বিরোধী দলে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর দুই দফায় দলটি ক্ষমতায় এলেও আর কোনো বিভাগীয় সম্মেলন হয়নি।

এবার অবশ্য দলের সভানেত্রী আসছেন না। প্রধান অতিথি হয়ে আসছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভাকে সামনে রেখে বিল বোর্ড স্থাপন করলে তাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনা ছাড়া কারো ছবি ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ। গত শনিবার রাতে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে দলের দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।

সম্মেলন ঘিরে চাঁদাবাজি করা যাবে না বলেও একই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগীয় সম্মেলনের নামে কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজি করলে মহানগর ও জেলা শাখার নেতাদের অবগত করার অনুরোধ জানিয়ে সভায় বলা হয়, প্রতিনিধি সম্মেলনের কথা বলে কেউ কোনোভাবে মানুষকে হয়রানি বা ফায়দা লাভের চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনে সিলেট বিভাগের সব ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অংশ নেবেন। এ ছাড়া দলের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা অংশ নেবেন। তাঁদের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা মাঠপর্যায়ে দলের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেবেন। সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও আহমদ হোসেনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। তাঁরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন নির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে দলের ঐক্য সুসংহত করতে তাগাদা দেবেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া সিলেটের ওসমানীনগর ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পরাজয় এবং সুনামগঞ্জ-২ আসনের উপনির্বাচনের বিষয়টি সম্মেলনে আলোচিত হবে। নেতাকর্মীদের ধারণা, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলের একাধিক প্রার্থীর কারণে এ দুটি উপজেলায় দলীয় প্রার্থীদের পরাজয় ঘটেছে।


মন্তব্য