kalerkantho


তরুণ তৌহিদুলের উদ্ভাবন

পলিথিন বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



পলিথিন বর্জ্য থেকে

জ্বালানি তেল

পরিবেশদূষণের যেসব উপাদান চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তার মধ্যে পলিথিন অন্যতম। তবে এই পলিথিন বর্জ্য থেকে খুবই সস্তায় জ্বালানি তেল উৎপাদন করা সম্ভব।

আশাজাগানিয়া এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন জামালপুর সদর উপজেলার কুচঝগড় এলাকার তরুণ তৌহিদুল ইসলাম (২৫)।

এই প্রযুক্তিতে পলিথিন বর্জ্য থেকে তৈরি হয় জ্বালানি তেল। এই তেল উৎপাদনে লিটারপ্রতি খরচ মাত্র ৭০ পয়সা থেকে দুই টাকা। আর তেল বেরোনোর পর যে কালি বের হয়, তা ব্যবহার করা যায় ফটোকপির মেশিনের কালি হিসেবে।

ময়মনসিংহ শহরের জিমনেসিয়ামে বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় তৌহিদুলের উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ১১ মার্চ থেকে তিন দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজক ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়। মেলায় নানা উদ্ভাবন ঠাঁই পেলেও পলিথিন বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল বের করার বিষয়টিই সবার মধ্যে আলোড়ন তুলেছে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে হবে এই প্রযুক্তি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কি না।  

তৌহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, ২০০৯ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে জৈবযৌগ নিয়ে পড়াকালেই এ বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

ওই বছর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষায় তিনি সফল হন। পরের বছর বিজ্ঞান মেলায় পুরস্কার পান। এরপর পাঁচ-ছয় বছর বিষয়টি নিয়ে আরো ভালোভাবে গবেষণা করেন। ২০১৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে সফল হন।

তৌহিদুল জানান, তাঁর মেশিনটি মূলত একটি বড় বালতির মতো চেম্বার, যেখানে পলিথিন ভরে লোহার ঢাকনা দিয়ে চাপা দেওয়া হয়। এরপর দেওয়া হয় আগুনের তাপ। পলিথিন গলে বাষ্প হয়ে দুই ফুট/দুই ফুট ও ছয় ফুট দৈর্ঘ্যের মোট তিনটি পাইপ খণ্ডের ভেতর দিয়ে আসার পর তেল বের হয়। মূলত তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে তেল কোন জাতীয় হবে। ১২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় তাপ দিলে পেট্রল জাতীয় তেল বের হয়। এর দ্বিগুণ তাপ দিলে ডিজেল জাতীয় এবং আরো বেশি মাত্রায় তাপ দিলে বের হয় কেরোসিন জাতীয় তেল। এক হাজার কেজি পলিথিন থেকে অর্ধেক পরিমাণ তেল আহরণ সম্ভব। এতে খরচ পড়ে লিটারপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে দুই টাকা। প্রায় ৪০ মিনিট তাপ দিতে হয়। পুরো তেল বের হতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় নেয়।

উদ্ভাবক তৌহিদুল জানান, তিন বছর ধরে তিনি এ তেল ব্যবহার করছেন। এ তেল দিয়েই মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। তাঁর কোনো ভালো মেশিন নেই। বাসায় ব্যবহার করা মেশিনটি লাখ টাকা দামের। যদি সাড়ে সাত লাখ টাকা দিয়ে তিনি একটি মেশিন বানাতে পারতেন, তাহলে প্রতিদিন দুই হাজার কেজি পলিথিন থেকে প্রায় এক হাজার কেজি তেল আহরণ করতে পারতেন। কিন্তু অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় ভালো মেশিন কিনতে পারছেন না।  


মন্তব্য