kalerkantho


একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প

খুলনায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে

কৌশিক দে, খুলনা   

১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে নেওয়া সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘একটি বাড়ি একটি খামার’-এ খুলনায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। ২০০৯ সালে প্রকল্প শুরুর পর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলায় বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি টাকা।

খেলাপি ঋণ আদায় না হওয়ায় প্রকল্পের সাধারণ সদস্যরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের গৃহীত প্রকল্পের সুফল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ঋণের অর্থ আদায়ে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্তরা তৎপর না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন বলেছে, প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের কার্যক্রম বর্তমানে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। খুলনায় এ প্রকল্পে ৬১২টি সমিতি করা হয়, যার সদস্য ৩৬ হাজার ৪৯৯ জন। গেল ফেব্রুয়ারি মাসে এই সদস্যদের সঞ্চয় জমা হয়েছে ২০ কোটি ২৫ লাখ ৭৭ হাজার ৯৮২ টাকা। এ ছাড়া সরকার সদস্যদের সঞ্চয়ের ওপর উৎসাহ ভাতা দিয়েছে ১৬ কোটি ৮৬ লাখ ৮৮ হাজার ২৫৭ টাকা। সমিতির ঋণ তহবিলে দিয়েছে ১৭ কোটি ২৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৫ টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন ধাপে সদস্যদের ৫৩ হাজার ২৬৩ প্রকল্পে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৭২ কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার ১০০ টাকা।

ঋণ আদায় হয়েছে ২৬ কোটি ৯০ লাখ ৭২ হাজার ৬৯৬ টাকা। বর্তমানে বকেয়া ঋণ রয়েছে ১০ কোটি ৭৫ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৫ টাকা। আর ২০০৯ সালে প্রকল্প শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৯ হাজারের বেশি ঋণগ্রহীতার কাছে অনাদায়ি রয়েছে ১১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৪ টাকা।

রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সভাপতি আব্দুল গফফার শেখ বলেন, ‘সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পের অন্যতম একটি খামার একটি বাড়ি প্রকল্প। এরই মধ্যে প্রকল্প থেকে ঋণ সুবিধা নিয়ে অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছেন। নতুন করে অনেকেই স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু ঋণ আদায়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদাসীনতা রয়েছে। এতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এ জন্য কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ’

গফফার শেখ মনে করেন, কিছু ব্যক্তির জন্য একটি ভালো উদ্যোগ নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়।

একই উপজেলার প্রকল্প সমন্বয়ক বাসুদেব কুমার বলেন, ‘ঋণ দেওয়া ও আদায় একটা চলমান প্রক্রিয়া। এখানে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে বর্তমানে দুই শতাধিক ঋণখেলাপি রয়েছেন। তাঁদের একাধিকবার নোটিশ করে ঋণ পরিশোধের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

প্রকল্প থেকে সুফলভোগী জাবুসা গ্রামের ভূমিহীন নারী লিপি বেগম বলেন, ‘প্রকল্প থেকে ২০১১ সালে ঋণ নিয়ে গাভি পালন শুরু করি। এখন অনেক ভালো আছি। ভবিষ্যতে গাভির পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন করতে চাই। ’

প্রকল্পের খুলনা জেলা সমন্বয়ক মো. তোফাজ্জেল হোসেন ঋণখেলাপির সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে ভেবে অনেকেই ঋণ পরিশোধ না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। ঋণ আদায়ের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে আমরা দ্রুতই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ’

খুলনার জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচনে একটি বাড়ি একটি খামার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। তাই এ প্রকল্পের সব অনিয়ম ও খেলাপি ঋণ আদায়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রকল্পের ঋণ বিতরণ ও আদায়ে অনিয়ম দূর করতে সার্টিফিকেট মামলা করা হবে। ’


মন্তব্য