kalerkantho


সীমা মাঠ চষছেন, সাক্কু তাকিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকে

নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লা   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সীমা মাঠ চষছেন, সাক্কু তাকিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের দিকে

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির শক্তি-সামর্থ্য। যেসব ভোটার চুপচাপ পরিস্থিতি দেখছিল, তারাও এখন নিজেদের পছন্দের জানান দেওয়া শুরু করেছে।

অনেক বেশি শক্তি নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। অন্যদিকে কাছের মানুষও দূরে সরে যেতে শুরু করেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর নির্বাচনী কর্মকাণ্ড থেকে। এর পরও সাক্কু আশা করছেন, গত পাঁচ বছরে সিটি করপোরেশনে এবং তার আগে পৌরসভায় যেসব উন্নয়নমূলক কাজ তিনি করেছেন, এর ওপর ভর করেই  জয় পাবেন তিনি। তার ওপর আছে স্থানীয় আওয়ামী লীগে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এর সুফলও তাঁর ঘরেই যাবে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনজুম সুলতানা সীমা মনে করেন, দলে যে বিভেদ রয়েছে তা অনেকটাই দূর হয়ে এসেছে। যারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করত তাদের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন বিরোধিতা না করে নৌকার পক্ষেই ভোট চাইছে। ফলে কুমিল্লা যে নৌকার ঘাঁটি, তা আবার প্রমাণের সময় এসেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সীমার পক্ষে কেন্দ্র থেকে একের পর এক টিম আসছে। তারা চষে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন এলাকা, করছে মতবিনিময় সভা। বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার দেড় শতাধিক মাইক্রোবাসে করে নেতাকর্মীরা ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসে। তারা দলীয় কার্যালয়ে যৌথ কর্মিসভা করেছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরাও ব্যাপক শোডাউন করেছে। গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক সুজিত রায় নন্দি কুমিল্লার রেসকোর্স ও রাজাপাড়ায় মতবিনিময় সভা করেছেন। কুমিল্লায় আগামীকাল রবিবার আসবেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ। এ ছাড়া সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজটিও তিনি করছেন।

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাক্কুর পাশে এখনো তেমন কোনো কেন্দ্রীয় নেতাকে দেখা যায়নি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উপস্থিত ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে নজরুল ইসলাম খান কুমিল্লায় আসেন। নগরের বাদুড়তলা এলাকায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজি আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের কার্যালয়ে তিনি দলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

এদিকে জেলা বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধ নিরসনে এখনো কোনো ধরনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তা ছাড়া প্রার্থীর পাশে কেন্দ্র থেকেও তেমন কেউ এসে দাঁড়ায়নি। তবে আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সমর্থক-নেতাদের সাক্কুর পাশে কাজ করতে দেখা গেছে। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু না হলেও কৌশলী প্রচার চালাচ্ছেন সাক্কু। বিভিন্ন এলাকায় কুশল বিনিময় করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় অনেক নেতা ও ২০ দলীয় জোটের নেতারা কুমিল্লায় আসবেন। আমি চাই, আমাদের নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও একবার যেন কুমিল্লায় ঘুরে যান। আমি তাঁর কাছে যাব। তিনি আমাকে খুব স্নেহ করেন। এ ছাড়া দলীয় কেন্দ্রীয় নেতারা কুমিল্লায় আসবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। ’

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সাক্কুর জয়ের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। অবশ্য সাক্কু বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোট দিয়ে আমরা পাস করব, এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বিএনপি এককভাবেই নিজস্ব শক্তিতে বলীয়ান। ’

আওয়ামী লীগের প্রার্থী সীমা মনে করেন, দলের কোন্দল ক্রমেই দূর হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মনোমালিন্য থাকতে পারে; কিন্তু নৌকার প্রশ্নে তো সবাই এক। এ নিয়ে তো কারো কোনো বিরোধ নেই। নৌকার বাইরে তো কেউ না। ১৫ মার্চের পর দেখবেন কুমিল্লা আওয়ামী লীগের সব নেতাকর্মী একসঙ্গে কাজ করবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, মানুষ পরিবর্তন চায়। ৩০ তারিখের জন্য এখন অপেক্ষা। ’

সীমার পক্ষে প্রচার চালানো কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক আলহাজ ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, নৌকার বিরোধিতা কেউ করছে না। ’


মন্তব্য