kalerkantho


মূলধনী যন্ত্রের আড়ালে হচ্ছে সব চোরাচালান

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



চট্টগ্রাম বন্দরে যত বিদেশি মদ, সোনা, সিগারেট ও টেলিভিশন সেটের চোরাচালান ধরা পড়েছে তার প্রায় সবই আমদানি হয়েছে মূলধনী যন্ত্রপাতির নামে। কারখানা স্থাপন বা সম্প্রসারণের জন্য শুল্ক সুবিধায় এই মূলধনী যন্ত্র আমদানি করা হয়। বিগত পাঁচ বছরের আটককৃত পণ্যের চালানের পরিসংখ্যান ঘেঁটে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, দুটি কারণে মূলধনী যন্ত্রের নামে ওই সব পণ্য চোরাচালান হয়। এর একটি হচ্ছে শুল্ক ফাঁকি। অন্যটি হচ্ছে এ ধরনের চালান সহজে বন্দর থেকে বের করার সুযোগ। কারখানার যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ আমদানির শুল্ক মাত্র ১ থেকে ৩ শতাংশ। অন্যদিকে বিদেশি মদ, সোনা, সিগারেট, টেলিভিশন সেট বৈধ উপায়ে আনতে গেলে শুল্ক দিতে হয় ৬০০ শতাংশ। এ ছাড়া বন্দর ফটকে নজরদারি কম থাকায় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা পণ্য সহজে বের করা সম্ভব। এই দুই সুবিধা কাজে লাগিয়ে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে উঠছে একটি চক্র।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মঈনুল খানও মনে করেন, এ দুটি কারণে বড় ধরনের চোরাচালান হচ্ছে।

মূলধনী যন্ত্র আমদানির নামে যে প্রায় সব চোরাচালান হচ্ছে এটা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরো মনে করেন, আমদানি পণ্যের জন্য ঋণপত্র খোলা বাণিজ্যিক ব্যাংক, চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্দর—এই তিন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে

অবহেলা আছে অথবা তারা কোনো না কোনোভাবে এতে জড়িত। এ কারণে বড় ধরনের চোরাচালানের ঘটনা ঘটছে।

ড. মঈনুল বলেন, ‘এ বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি চোরাকারবারিদের মুখোশ উন্মোচন করা সম্ভব হবে। ’

জানা গেছে, দেশে শিল্পায়ন উৎসাহিত করতে সরকার নামমাত্র শুল্কে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুযোগ দেয়। শুধু কারখানা স্থাপনের অনুমতির বিপরীতে এ সুযোগ দেওয়া হয়। এই যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ দুইভাবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হয়। ট্রাকে করে সরাসরি আমদানিকারকের কাছে চলে যায়, যাকে অনসেসিস ডেলিভারি বলা হয়। আরেকটি হচ্ছে, যন্ত্রভর্তি কনটেইনার বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে নিয়ে সেখান থেকে খালাস করা হয়। দুই পদ্ধতিতেই স্ক্যানিং রিপোর্ট নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই স্ক্যানিং রিপোর্ট নিয়েই যত ঘাপলা ও অনিয়ম। অবৈধ পণ্য খালাস করার ক্ষেত্রে স্ক্যানিং না হওয়ার ঘটনা ঘটেছে অহরহ।


মন্তব্য