kalerkantho


‘ভূত’ তাড়াতে পারলেন না ইউএনও ওসি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সাতক্ষীরার তালা উপজেলার প্রসাদপুর গ্রামের রহমত বিশ্বাসের পরিবারের সাত সদস্যের ওপর ‘ভূত আছর’ করেছে বলে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এক সপ্তাহ ধরে পরিবারটির মানসিক ভারসাম্য হারানোর খবর প্রচার হচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। গত শুক্রবার ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। কিন্তু তাঁরা পরিবারের কাউকে হাসপাতালে তো দূরের কথা, বাড়ির বাইরেও আনতে পারেননি।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কুদরত-ই-খোদা বলেন, ‘ইউএনও ও থানার ওসির সঙ্গে ওই এলাকায় গিয়ে দেখি, তারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। ওখানকার লোকেরা এটাকে জিন-ভূতের ব্যাপার বলে দাবি করলেও আমরা তা বিশ্বাস করিনি। তারা হয়তো কোনো কারণে মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে, যে কারণে তাদের এ সমস্যা হয়েছে। অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে সেখানে গেলেও তাদের হাসপাতালে আনা সম্ভব হয়নি। তবে চিকিৎসা দিলে তারা পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবে। ’

গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পরিবারটির দুই মেয়ে, তিন ছেলে ও দুই নাতি-নাতনিকে পায়ে শিকল বেঁধে অথবা ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। একসঙ্গে পরিবারের সদস্যদের এ অবস্থায় দেখতে অনেকে ভিড় করছে বাড়িটিতে।

অসুস্থ সাতজন হলো রহমত বিশ্বাসের তিন ছেলে হালিম বিশ্বাস (২৮), আবদুস সবুর বিশ্বাস (২৫) ও গফুর বিশ্বাস (১৬), দুই মেয়ে ফরিদা খাতুন (৩৫) ও সালেহা খাতুন (১৪) এবং দুই নাতি-নাতনি মেহেদী হাসান (১৩) ও আয়েশা খাতুন (৬)। গত শুক্রবার বিকেল থেকে সালেহা ও মেহেদী হাসান কিছুটা সুস্থ হওয়ায় তাদের পায়ের শিকল খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদের পায়ে শিকল রয়েছে।

রহমতের স্ত্রী নবীজান বিবি জানান, বড় মেয়ে ফরিদা খাতুনের বিয়ে হয়েছিল ঝিনাইদহের পুয়াবাটি গ্রামে। সেখানে তাঁর ওপর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা নির্যাতন চালাত। কিছুদিন আগে তাঁকে নির্যাতন করে ‘পাগল’ আখ্যা দিয়ে বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য খবর পাঠানো হয়। তাঁকে বাবার বাড়ি আনার পর পরিবারের অন্যরা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। গৃহকর্তা রহমত বিশ্বাস বলেন, ‘স্বামীর বাড়িতেই আমার মেয়ের এ অবস্থা হয়। সেখান থেকে তাকে তিন-চারজন মিলে ধরেবেঁধে নিয়ে আসা হয়। আনার পর থেকে বাড়ির অন্যরা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এখন তাদের তাবিজ ও ঝাড়ফুঁক দেওয়া হচ্ছে। এভাবে একটু সুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হবে। ’

তালা থানার ওসি হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রসাদপুর গ্রামে এক পরিবারের সাত সদস্য অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে সেখানে যাই। পরিবারটি এতটাই কুসংস্কারাচ্ছন্ন যে আমরা তাদের চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি। তাদের ধারণা, স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করলেই তারা সুস্থ হবে। ’

তালার ইউএনও মো. ফরিদ হোসেন জানান, ফরিদা বাবার বাড়ি ফিরে আসায় ভাইয়েরা মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাদের দেখতে বাড়িতে লোকজন ভিড় করায় তারা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছে।


মন্তব্য