kalerkantho


সংসদে অর্থমন্ত্রী

বাণিজ্যিক ব্যাংকে অলস পড়ে আছে ৪ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অলস টাকার পরিমাণ তিন হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। এ কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তাঁর মতে, এই স্থিতির ওপর ব্যাংকগুলো কোনো সুদপ্রাপ্ত হয় না বিধায় এই পরিমাণ অর্থকে অলস অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা যায়; যদিও ৫৭টি ব্যাংকের মোট আমানত বিবেচনায় এ অর্থ অস্বাভাবিক নয়।

গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য মো. নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আরো জানান, অলস টাকা কাজে লাগাতে এবং ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সঞ্চয়পত্রের সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। ঋণের সুদের হার হ্রাসের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার জন্য সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সরকারদলীয় সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ কমে যাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়। বিগত ২০০৯ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকিং খাতে মোট বিনিয়োগ বা ঋণের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ৪৬ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা; যা ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ছয় লাখ ৬৭ হাজার ১৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭১ শতাংশ। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সব টাকা বিনিয়োগ (ঋণ) হিসেবে বিতরণ সম্ভব নয়। দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদন, আমানতকারীদের নগদ অর্থের চাহিদা পূরণ এবং লাভজনক নতুন বিনিয়োগের জন্য কিছু নগদ অর্থ সব সময় ব্যাংকের হাতে গচ্ছিত থাকে।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে গচ্ছিত নগদ অর্থ থেকে ব্যাংক কোনো সুদপ্রাপ্ত হয় না বিধায় সিআরআরের অতিরিক্ত গচ্ছিত অর্থকে অলস অর্থ হিসেবে অভিহিত করা যায়। বিগত ৩১ ডিসেম্বর ২০০৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে রক্ষিতব্য নগদ জমার অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৭৬৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ সালে এই অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৯১৯ কোটি টাকা।


মন্তব্য