kalerkantho


ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক

৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট, ভোগান্তি

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তীব্র যানজট হয়েছে। গাজীপুর নগরের ভোগরা বাইপাস থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার জুড়ে যানবাহনের জট লেগে যায়।

সড়কের ওপর গাড়ি বিকল, বৃষ্টি, উল্টো পথে গাড়ি চলাচল, সড়কের ওপর গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো, শাখা সড়ক থেকে মহাসড়কে বিভিন্ন কারখানা ও বনভোজনের গাড়ি ওঠা এবং সরকারি ছুটির কারণে এ যানজট হয়। এ কারণে এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে চার-পাঁচ ঘণ্টা। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পুলিশ, যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের খাড়াজোড়া এলাকায় রেল ওভারব্রিজের ওপর গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে একটি ট্রাক বিকল হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের ওই স্থানে এসে চলাচলরত অন্য যানবাহনের গতি কমে যায়। সৃষ্টি হয় যানজট। এরপর শুরু হয় বৃষ্টি। এতে সড়কের দুই পাশে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। সড়কের পাশ ঘেঁষে যানবাহন চলতে না পারায় যানজট আরো বাড়তে থাকে।

খবর পেয়ে কোনাবাড়ী ও কালিয়াকৈর থানা পুলিশ শেষ রাতের দিকে বিকল ট্রাকটি সড়কের ওপর থেকে সরিয়ে নেয়। কিন্তু যানজট ছাড়েনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে গিয়ে যানজট গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ও চন্দ্রা থেকে বারইপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

যানজটের কারণে অনেক স্থানে যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। আবার অনেক স্থানে হেঁটে যাওয়ার কোনো উপায় না থাকায় গাড়ির ভেতর যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে।

যানজটের কারণে শিল্প-কারখানার শ্রমিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা গন্তব্যে পৌঁছতে ভোগান্তিতে পড়ে।

যাত্রী, পথচারী ও যানবাহনের চালকরা অভিযোগ করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে সড়কে যানজটের সৃষ্টি হবে না।

বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের টাঙ্গাইলগামী বাসের যাত্রী হোসাইন বলেন, গতকাল ভোর ৬টায় ঢাকার মহাখালী থেকে উঠেছেন। যাবেন মির্জাপুর। সকাল সাড়ে ১১টার বেশি বাজে, কিন্তু কালিয়াকৈর পার হতে পারেননি। কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, যানজটের কারণে তাঁদের পণ্য আটকে আছে মহাসড়কে। সময় মতো পণ্য পৌঁছানো সম্ভব না হলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাঁদের।

পাথরবোঝাই একটি ট্রাকের চালক আবু রায়হান বলেন, ‘ভাই কী বলব, বসে থাকতে থাকতে অধৈর্য হয়ে পড়েছি। দুপুর আড়াইটা ওপরে বাজতে চলেছে তবু গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে পারলাম না। ’


মন্তব্য