kalerkantho


মসলিন ফেরানোর উদ্যোগ

ফুটি কার্পাস না পেলে বিদেশ থেকে জার্মকিট

মোশতাক আহমদ   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ফুটি কার্পাস না পেলে বিদেশ থেকে জার্মকিট

মসলিনের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ফুটি কার্পাসের অনুসন্ধান চলছে রাজশাহী, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় এবং পাহাড়ি এলাকায়। এই গাছের তুলা ব্যবহার করে মসলিন আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড।

তাঁত বোর্ড সূত্র জানায়, ফুটি কার্পাস গাছ পাওয়া গেলে এর বীজ সংগ্রহ করা হবে। যদি ফুটি কার্পাস না পাওয়া যায় তাহলে একসময় যেসব দেশে মসলিন কাপড় রপ্তানি করা হতো, বিশেষ করে ইংল্যান্ড, জাপান, ভারত, পাকিস্তান ও উজবেকিস্তান থেকে মসলিন কাপড়ের জার্মকিট সংগ্রহ করা হবে। সেই জার্মকিট থেকেও ফুটি কার্পাস গাছ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

মসলিন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ‘সোনালী ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার’ নামে একটি প্রকল্প নিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সরকারি সংস্থা তাঁত বোর্ড। চলতি বছর জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের আওতায় মসলিন শাড়ি ও কাপড় তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করা হবে। তাঁত বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্স, বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটি ও বস্ত্র পরিদপ্তর প্রভৃতি সংস্থার সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড় ফুটি কার্পাস থেকেই তৈরি হয়েছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

একসময় উন্নত মানের কার্পাস জন্মাত কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে। সপ্তদশ শতকে মসলিন শিল্পের বিকাশ ঘটেছিল ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায়। তবে এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে থাকে মোগল আমলে। ওই সময়ে মসলিন তৈরির জন্য বিখ্যাত ছিল ঢাকা, সোনারগাঁ, ধামরাই, টিটবাদি, বাজিতপুর ও জঙ্গলবাড়ি।

এ প্রকল্প নিয়ে গত ২০ নভেম্বর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। সেখানে বেশ কিছু সুপারিশ সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরপর প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকাই মসলিনের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ ও নির্দেশনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিমাসেই এসংক্রান্ত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নিবিড় গবেষণার মাধ্যমে মসলিনের সুতা ও কাপড় তৈরির প্রযুক্তি বের করা, পরীক্ষামূলক মসলিন সুতা ও কাপড় তৈরি করার মাধ্যমে মসলিনের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। সেই সময় তিনি মসলিন তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রকল্পটি যাতে দ্রুত পরিকল্পনা কমিশনে পাস করানো হয় এ জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মসলিন কাপড় তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তাঁত বোর্ড একটি কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁতিসমাজকে পুনর্বাসন করে তাদের সমৃদ্ধ করা হবে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহা. ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, ‘বিশ্বখ্যাত মসলিন কাপড় তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটি মসলিন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি মসলিন কাপড় তৈরির প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড যে প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করেছে তা অচিরেই পাস হবে বলে আশা করছি। ’


মন্তব্য