kalerkantho


মাদক নির্মূলে যশোরে ১০০ দিনের কর্মসূচি

ফখরে আলম, যশোর   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



যশোর জেলাকে মাদকমুক্ত করার জন্য পুলিশ গত ৬ ফেব্রুয়ারি ১০০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। দেশে এ ধরনের কর্মসূচি এটাই প্রথম।

পুলিশের এই কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে যশোরের হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ মাদক নির্মূলে সোচ্চার হয়ে মিছিল-সমাবেশ করছে।

পুলিশের নেওয়া কর্মসূচির আওতায় গত ১০ মার্চ পর্যন্ত ৩২ দিনে মাদক আইনে বিভিন্ন থানায় ৩৪৫টি মামলা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে পাঁচ কোটি ২৩ লাখ টাকার চার কেজি হেরোইন, ৯ হাজার ৯৮৫টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭৩৮ বোতল ফেনসিডিল, ৩০ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক। আটক হয়েছে ৩৩২ জন মাদক কারবারি।

জানা গেছে, আগামী ১৬ মার্চ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এই কর্মসূচি সরেজমিনে দেখার জন্য যশোরে আসবেন। ধারণা করা হচ্ছে, তালিকাভুক্ত কুখ্যাত মাদক কারবারিরা এদিন তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করবে।

যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘মাদক ও জঙ্গি প্রতিকার বাংলাদেশ পুলিশের অঙ্গীকার’— স্লোগানকে সামনে রেখে দেশে প্রথম জেলা হিসেবে যশোরকে মাদক ও জঙ্গিমুক্ত করার জন্য তাঁরা ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, প্রথমে ‘ক্র্যাশ প্রগামের’ অধীন জেলার আটটি পৌরসভাকে মাদকমুক্ত করা হবে।

একই সঙ্গে ৯৩টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রথম ধাপে ৩০টি ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করা হবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সম্পৃক্ত করে জনসভায় ১৫ মিনিট মাদকবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে তাদের। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায় সহযোগিতা করলে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের সব সদস্য অঙ্গীকার করেছেন। কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামকে সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, ‘মাদক নির্মূলে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। মাদকবিরোধী মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিচ্ছে। এ কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ’

যশোর হচ্ছে মাদক পাচারের অন্যতম রুট। প্রতিবেশী দেশ থেকে সীমান্ত গলিয়ে ফেনসিডিল, হেরোইন পাচার হয়ে আসে। অন্যদিকে মিয়ানমারের ইয়াবা ট্যাবলেট গ্রামপর্যায়ে পৌঁছে গেছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পুলিশের এ উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে এগিয়ে এসেছে যশোরবাসী। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ মোহাম্মদ আবু সরোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যশোরের ৯টি থানা এলাকায় মাদকবিরোধী সমাবেশ করেছি। পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সভা ও কাউন্সেলিং চলমান রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার অভিযোগ পেলেই সেই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ’

উল্লেখ্য, গত বছর ৩১ কোটি ২৯ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে প্রথম হয়েছে যশোর পুলিশ।


মন্তব্য