kalerkantho


যুব মহিলা লীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

২০০১ সালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে আ.লীগকে হারায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



২০০১ সালে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে আ.লীগকে হারায়

রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশন মিলনায়তনে গতকাল যুব মহিলা লীগের জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। ছবি : বাসস

গ্যাসের জন্য বিদেশি চক্রান্তে ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর লোকজনের সঙ্গে বিএনপির যোগসাজশ হয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুব মহিলা লীগের সম্মেলন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কথা বলেন।

ভারত ইস্যুতে বিএনপির দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালে পাশের দেশের কাছে দেশের সম্পদ বিক্রির মুচলেখা দিয়ে ক্ষমতায় এলেও তারা আজ ভারতবিরোধিতার কথা বলছে। ভারতবিরোধিতার কথা বিএনপির মুখে মানায় না। তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াই ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তাঁদের মুখে ভারতবিরোধিতার কথা মানায় না। ’

নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি তো দিইনি, বরং চেয়েছিলাম আমার দেশের সম্পদ আগে দেশের মানুষের কাজে লাগবে, ৫০ বছরের রিজার্ভ (মজুদ) থাকবে। তারপর আমরা ভেবে দেখব বিক্রি করব কি করব না। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন শুনি খুব ভারতবিরোধী কথা! আমার প্রশ্ন, ২০০১ সালের নির্বাচনে যখন আমেরিকান কম্পানি আমাদের গ্যাস বিক্রি করতে চাইল ভারতের কাছে তখন এই গ্যাস বিক্রির মুচলেখা দিয়েছিল কে?’ তিনি বলেন, এখন ভারতবিরোধী কথা বললেও আমেরিকান এমবাসির লোক, ‘র’-এর লোকেরা তো হাওয়া ভবনে বসেই থাকত এবং তাদের উদ্দেশ্য ছিল সেই নির্বাচনটায় সম্পূর্ণভাবে আওয়ামী লীগকে হারাবে আর এখান থেকে গ্যাস নেবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন তিনি বলেছিলেন যে তারা গ্যাস পাবে না, আল্লাহতাআলাই গ্যাস দেবে না।

বিক্রি তো দূরের কথা এবং তা-ই হয়েছে—গ্যাস পায়নি, দিতেও পারেনি। তিনি বলেন, ‘কিন্তু মুচলেখা তো দিয়েছিল, আজকে তাদের মুখে এত ভারতবিরোধী কথা!’

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তারের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের নারী ও শিশুবিষয়ক সম্পাদক বেগম ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা, সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পেশ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অপু উকিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, ভারতে গিয়ে উনি (খালেদা জিয়া) বেশ ঘুরেটুরে আসলেন। যখনই এখানে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করল—গঙ্গার পানির কী হলো? উনি বললেন, গঙ্গার পানির কথা? ওহো...ওটা বলতে তো তিনি ভুলেই গিয়েছিলেন। ’

খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ভারতবিরোধী কথা বললেন, এর আগে তিনি গঙ্গার পানি আদায়ের জন্য ফারাক্কা পর্যন্ত লংমার্চ আন্দোলনও করেছিলেন; কিন্তু ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলেই গেলেন! আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে দালালিটা করে কে?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা কিন্তু গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করেছি। ’ তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সীমানা চুক্তি এবং সমুদ্র চুক্তি করে যান। কিন্তু জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া—যাঁরাই ওই সময় ক্ষমতায় ছিলেন তাঁরা কখনো এসব চুক্তির কথা একবারের জন্য বলেননি, সাহসও পাননি। দালালি এমনভাবে ছিল যে এটা করার জন্য সে কথা তাঁরা উচ্চারণও করেননি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলা হয়েছিল—পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি হলে ফেনী থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত সব নাকি ভারত হয়ে যাবে। পার্বত্য শান্তিচুক্তিতেও তারা বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘যারা ভারতের কাছ থেকে কিছুই আদায় করতে পারেনি তারাই আবার ভারতবিরোধী কথা বলছে। আমি একটা কথাই বলব, এ সমস্ত খেলা তারা অনেক খেলেছে। তাদের কোনো দেশপ্রেম নেই। ক্ষমতাটা তাদের কাছে ভোগের বস্তু। কারণ তারা যে যখনই ক্ষমতায় এসেছে, অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে। কিছু মুষ্টিমেয় লোককেও অর্থ-সম্পদের মালিক করেছে এবং তাদের জোরে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছে। ’

জিয়া থেকে শুরু করে সবাই এটাই করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জিয়ার সম্পদ সম্পর্কে গণমাধ্যমে অপপ্রচার প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্যারিস থেকে স্যুট আসত (জিয়ার), জুতা আসত। আর কোথা থেকে কোথা থেকে নানা কিছু আসত। আর মরে যাবার পর প্রচার হলো কি—জিয়া কিছুই রেখে যায়নি। কেবল ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া। ’ তিনি বলেন, ‘জিয়া মারা যাওয়ার পর ৪০ দিন দিনরাত বিটিভিতে এগুলো প্রচার করা হলো। দামি বেড কাভারের ওপর ভাঙা স্যুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জি। বাকি আর বলতে চাই না—যা যা ছিল। হাওয়া ভবন, গাজীপুরের খোয়াব ভবন। মায়ের ভাগ ফালুর কাছে, পুত্রের ভাগ মামুনের কাছে। এভাবে শুধু দুর্নীতিই করে গেছে, দেশের কোনো উন্নয়ন করেনি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমন একটা সময়ে এই যুব মহিলা লীগ আমি গঠন করেছিলাম সেই ২০০২ সালের ৬ জুলাই। তখন এর প্রথম আহ্বায়ক কমিটি আমি করে দিই। ’ আগামী দিনে নিয়মিত এ সম্মেলন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। যুব মহিলা লীগ গঠনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালে যে অত্যাচার-নির্যাতন বিএনপি-জামায়াত জোট করেছিল, সেসব স্মৃতি আমরা ভুলে যেতে পারি না। ’

এখন মামলা নিয়ে ভয় পাওয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের মতো কোনো নির্যাতন কিন্তু আমরা করিনি। আর এতই যদি ভয় থাকে তবে, রাজনীতি করা কেন। ’

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি যুব মহিলা লীগকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে—কেন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। আরো কী আমরা করতে পারি সে বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। মানুষকে বলতে হবে। ’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুব মহিলা লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ওই সময় সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং গণ-আন্দোলনে আত্মাহুতিদানকারী যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য