kalerkantho


পুলিশের ‘ধাওয়ায়’ তরুণের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



কুমিল্লা সদর উপজেলার চাঁপাপুর এলাকায় পুলিশের গাড়ির ধাওয়ায় মোটরসাইকেল আরোহী এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তিন পুলিশ কনস্টেবলকে আটক ও পুলিশের ব্যবহার করা মাইক্রোবাসটি পুড়িয়ে দিয়েছে। পরে তাদের কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গতকাল শুক্রবার ভোরের এ ঘটনায় নিহত তরুণের নাম আবু তাহের। তিনি কুমিল্লার শাহপুরের আবুল কাশেমের ছেলে।

পুলিশ বলছে, পুলিশের গাড়ির চালক ভোরের দিকে চলন্ত অবস্থায় তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় থাকায় মোটরসাইকেলটিকে দেখতে পায়নি। এ কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তরুণটিকে ধাওয়া করা হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের একটি মাইক্রোবাস ভোর ৫টার দিকে মোটরসাইকেল আরোহী তাহেরকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে বালতুপার চাঁপাপুর এতিমখানা মোড়ে এসে মোটরসাইকেলটিকে মাইক্রোবাসটি ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলসহ রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাহের মারা যান।

এ সময় পুলিশের গাড়িটিও রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশে পড়ে যায়। পুলিশ সদস্যরা এ সময় দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি টেনে তোলার জন্য মোবাইল ফোনে ‘র‍্যাকার’ চেয়ে পাঠায় এবং নিহত তরুণের লাশটি রাস্তা থেকে ৩০ ফুট দূরে ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে ফেলে রাখে। এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের লোক দৌড়ে ঘটনাস্থলে এলে পুলিশ তাদের হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দূরে সরে যেতে বলে। একপর্যায়ে ‘র‍্যাকার’ এসে মাইক্রোবাসটি তোলার পর পুলিশ সদস্যরাও চলে যেতে চাইলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাদের ঘিরে ফেলে। এ সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা পালিয়ে গেলেও তিন কনস্টেবলকে আটক করে জনতা। ঘটনার পর পর পুলিশ, পিবিআই ও র‍্যাব-১১-র সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। উত্তেজিত এলাকাবাসী মাইক্রোবাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা আটক কনস্টেবল মিজান, খোরশেদ ও কালামকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা প্রায়ই সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে। ’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য দোষী প্রমাণিত হলে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।


মন্তব্য