kalerkantho


বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রলীগের লাগামহীন কর্মকাণ্ড, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ছাত্রলীগের লাগামহীন

কর্মকাণ্ড, সংগঠনের 

ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন

হামলা, চাঁদাবাজি, ভাঙচুর, সংঘর্ষ, আধিপত্য বিস্তার, এসিড নিক্ষেপ, ছাত্রী হলে প্রবেশসহ লাগামহীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। এ কারণে একদিকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিষ্ঠ; অন্যদিকে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হচ্ছে। অপকর্মে লিপ্ত অনেক নেতার ছাত্রত্ব নেই। শৃঙ্খলাবিরোধী কাজের অভিযোগে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটিও স্থগিত করেছে।

জানা যায়, সর্বশেষ গত শনিবার সকালে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শিশির বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন লিফা ফাস্ট ফুড অ্যান্ড কনফেকশনারির কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ নিয়ে দফায় দফায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শাখা ছাত্রলীগের সব কার্যক্রম স্থগিতসহ বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শিশির ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মাহমুদ হাসানের ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে অনেক আগে। এর পরও তারা সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

শাখা ছাত্রলীগের অপকর্ম : ২০১৩ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে তৎকালীন উপাচার্য ড. মুহাম্মদ জলিল মিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেটে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত শিক্ষকদের ওপর এসিড নিক্ষেপ করে।

এতে কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। এ ঘটনায় বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. তুহিন ওয়াদুদ বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পছন্দের প্রার্থীদের কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে নিয়োগের দাবিতে ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৪ সালের ২০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ২০১৬ সালের ৬ জুন শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পাঁচজন কর্মী গুরুতর আহত হয়। বঙ্গবন্ধু হলের ডাইনিংয়ে বেশ কিছু আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থী ফাও (বিনা পয়সায়) খেয়ে থাকে। এ ব্যাপারে নিষেধ করা হলে বাবুর্চি শফিকুল ইসলামকে মারধর করা হয়। ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে জোর করে ঢুকে পড়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রী হিসেবে নিবন্ধিত নয় এমন কয়েকজন নারী কর্মীকে কয়েকটি কক্ষে জোর করে তুলে দেয়। চাঁদা না দেওয়ায় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্মাণস্থলে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তারা নিরাপত্তারক্ষীসহ আট শ্রমিককে গুরুতর আহত করে।

চার নেতার সদস্য পদ স্থগিত : সংগঠনবিরোধী কাজের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রলীগ নেতার সদস্য পদ স্থগিত করা হয়। তাঁদের বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে চিঠি দেওয়া হয়। সদস্য পদ স্থগিতকৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন ও মোহাম্মদ আলী রাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিতাস চন্দ্র রায় ও রাজীব মণ্ডল।

ছাত্রত্ব নেই : বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী একজন শিক্ষার্থীকে ছয় বছরের মধ্যে তার কোর্স শেষ করতে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শিশির নির্ধারিত সময়ে তাঁর কোর্স সম্পাদন করতে না পারায় বর্তমানে তাঁর ছাত্রত্ব নেই। শিশির বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের (২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি সেমিস্টার ড্রপ দিয়ে সর্বশেষ ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষা দেন। তাঁর চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের রেজাল্ট প্রকাশিত হলে তাঁকে ‘নট প্রমোট’ দেখা যায়।


মন্তব্য