kalerkantho


মূল অপরাধীদের কাঠগড়ায় দেখতে চায় সাঁওতালরা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ ইক্ষুখামারের জমি থেকে সাঁওতালদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মূল অপরাধী ও ইন্ধনদাতাদের ব্যাপারে এখনো আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ না করায় হতাশা ব্যক্ত করেছে সাঁওতালরা।

সংবাদমাধ্যমে উচ্চ আদালতে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির প্রতিবেদন পেশ করার বিষয়টি প্রচারিত হলে তা মুহূর্তেই সর্বত্র আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। বিশেষ করে সাঁওতালদের পক্ষে তাদের ভূমির আন্দোলনে সমর্থন জানানো সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ নিয়ে নানা মন্তব্য করে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা সিপিবির সভাপতি মিহির ঘোষ বলেন, গত ৬ নভেম্বর এই নির্মম হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, তিন সাঁওতালের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনিকভাবে দোষীদের ব্যাপারে কোনো আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়নি। উচ্চ আদালতের আদেশেই নির্যাতিত ওই জনগোষ্ঠী আশার আলো দেখতে পেয়েছে। তিনি বলেন, শুধু সাময়িক বরখাস্ত বা প্রত্যাহার নয়, ওই দুই পুলিশ সদস্যসহ বাকিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা করতে হবে। সাঁওতালরা স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও সাপমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাকিল আহমেদ বুলবুল, কাটাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রফিকসহ যাঁদের ওই ঘটনায় অভিযুক্ত করেছে তাঁদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদে সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না তা জানতে এই জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

এদিকে সাঁওতাল বসতি মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামে খোলা আকাশের নিচে তাঁবুতে বসবাসকারী এবং স্থানীয় বাঙালিরা দুপুরের পরই এ খবর জানতে পারে। উচ্চ আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা বলে, বসতি থেকে উচ্ছেদের পর তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে। পুলিশ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিরা তাদের এক দুঃসহ পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছেন।

তারা হামলা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে।

কেন্দ্রীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন ও বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার কমিটির সহসভাপতি ডা. ফিলিমন বলেন, ‘শুধু পুলিশ সদস্যরাই অপরাধী নন। এর সঙ্গে স্থানীয় এমপি, ইউপি চেয়ারম্যান, চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আউয়ালসহ সংশ্লিষ্টদের ব্যাপারে কেউ কোনো কথা বলছে না। তাঁদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচার দাবি করছি। ’ ভূমি উদ্ধার কমিটির কোষাধ্যক্ষ রাফায়েল হাসদা বলেন, শ্যামল সরেন, মঙ্গল মারডি ও রমেশ টুডুর হত্যাকারীদের চরম শাস্তি দেখতে আদিবাসীরা দিন গুনছে।

মাদারপুরের মনিকা টুডু বলেন, ‘আমাদের লোকজন যে জন্য জীবন দিয়েছে, শত শত পরিবার খোলা আকাশের নিচে বাস করছে তা মূলত বাপ-দাদার জমি ফিরে পাওয়ার আশায়। আমরা অপেক্ষায় আছি আইনি পন্থায় আমাদের জমি থেকে কাঁটাতারের বেড়া সরে যাবে। আমরা এই অবরুদ্ধ অবস্থা ও চোখরাঙানি থেকে মুক্তি পেতে চাই। ’


মন্তব্য