kalerkantho


সংসদে প্রধানমন্ত্রী

গণতন্ত্র আছে বলেই এত উন্নয়ন হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে সর্বসম্মতিক্রমে। সাধারণ আলোচনায় সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সমালোচকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘দেশে গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা আছে বলেই দেশের এত উন্নয়ন হচ্ছে।

দেশে এত উন্নয়ন ও অগ্রগতির পরও যাঁরা কিছুই দেখতে পান না তাঁরা আসলে কী চান? যদি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না-ই থাকে তবে সরকারের এত সমালোচনা তাঁরা করেন কিভাবে?’

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রথমে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং পরে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী খান। আলোচনা শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর স্পিকার সংসদের অধিবেশন আগামীকাল শনিবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

দারিদ্র্য বিমোচন নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাকসহ অন্যান্য এনজিওর দাবি নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষুদ্র ঋণ নয়, দেশে দ্রুতগতিতে দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে সরকারের গৃহীত ১৪২টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে। একটি ব্যাংকসহ প্রায় আড়াই হাজার এনজিও আছে, তারা ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে দেশে কত ভাগ দারিদ্র্য বিমোচন করেছে? তারা ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন করেছে নাকি যাঁরা এর ব্যবসা করেন তাঁরাই ধনশালী ও সম্পদশালী হয়েছেন এ বিষয়ে গবেষণা করা দরকার। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্র্যাক নাকি প্রতিবছর এক ভাগ হারে দারিদ্র্য কমাচ্ছে! গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পঁচাশি সালে, আর ব্র্যাক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিরাশি সালে। এ দুটি সংস্থা যদি দুই ভাগ হারে বছরে দারিদ্র্য দূর করে, তবে এই ৪৫ বছরে দেশে তো দারিদ্র্যই থাকা উচিত নয়। দেশে অনেক আগেই দারিদ্র্য একেবারে শূন্য হয়ে যাওয়া উচিত। তবে গেল না কেন?’

দেশে কোন সরকারের আমলে কত হারে দারিদ্র্য হ্রাস পেয়েছে তা নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যত দ্রুত দারিদ্র্য হ্রাস করেছে, অতীতের কোনো সরকার তা পারেনি।

ছিয়ানব্বই সালে আমরা যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি তখন দেশের দারিদ্র্য ছিল ৫৭ ভাগ। এখন আমরা দারিদ্র্য ১২ ভাগে নামিয়ে এনেছি। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণ নয়, ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের ব্যবস্থা করেছি। এখান থেকে ঋণ নিয়ে কাউকে সুদের জন্য বাড়িঘর, গরু বেচতে হয় না। আমাদের দৃঢ় পদক্ষেপের ফলেই এই আট বছরে দেশের পাঁচ লাখ মানুষ নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ে উঠে এসেছে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে আর হাত পেতে বা ভিক্ষা নিয়ে চলতে হয় না। আমরা প্রায় ৯০ ভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করি নিজেদের অর্থায়নে। পদ্মা সেতুতেও আমরা তা প্রমাণ করেছি। তাই যে যতই কথাই বলুক না কেন, এনজিওগুলোর এক ভাগ হারে দারিদ্র্য হ্রাসের অস্বাভাবিক দাবি মানলে তো দেশে দারিদ্র্যই থাকে না। বাস্তবতা হচ্ছে দেশে দ্রুত দারিদ্র্য কমেছে সরকারের গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে। আমরা ১৪২টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য। ’ তিনি বলেন, ‘দেশে খাদ্য ঘাটতি রেখে হাড্ডিসার, কঙ্কালসার মানুষকে দেখিয়ে বিদেশ থেকে ভিক্ষা এনে নিজেদের পকেট ভারী করার সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে—এটাই যেন অনেকের ভালো লাগছে না। কারণ এরা দেশের ও দেশের মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণ হোক তা চায় না। ’


মন্তব্য