kalerkantho


আশুলিয়ায় বার্নিকাট

জিএসপি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আগের অবস্থানে

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের (জিএসপি) বিষয়ে দেশটি এখনো আগের অবস্থানেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাট। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ইউনিক বাসস্ট্যান্ডে আওয়াজ ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, জিএসপির জন্য যে শর্তগুলো আগে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল সেগুলো বাংলাদেশকে পূরণ করতে হবে। এ জন্য সরকারকে আরো দৃঢ়ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তবে মূল কাজটা করতে হবে শিল্প মালিকদেরই। তিনি (বার্নিকাট) নিজেও চান বাংলাদেশ জিএসপিভুক্ত দেশের তালিকায় আসুক। তবে সে সুবিধা পেতে তিনি আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির ব্যাপারে বার্নিকাট বলেন, এটি একান্তই মালিক ও শ্রমিকের বিষয়। বাংলাদেশকে পোশাক খাতের অস্থিরতা দূর করতে তিনি মালিক ও  শ্রমিকদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, ঘরের স্ত্রীর সঙ্গে যদি ভালো সম্পর্ক তৈরি করা যায় তাহলে কোনো পক্ষে আর দ্বন্দ্ব থাকে না। তৃতীয় পক্ষও অনুপ্রবেশ করতে পারে না। কোনো অস্থিরতারও সৃষ্টি হয় না।

শ্রমিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ও মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা তাদের অধিকার আদায়ে যথাযথ ব্যক্তির কাছে যেতে পারে না। এ ক্ষেত্রে শ্রমিক সংগঠনের অনেক ভূমিকা রয়েছে।

বার্নিকাট বলেন, ‘রানা প্লাজা পরিস্থিতির পর ভাবা হয়েছিল তৈরি পোশাক খাত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তবে হয়েছে কিন্তু উল্টোটা। টেকসই তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিক মজুরি, তাদের সন্তানদের কল্যাণসহ নানা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সচেতন রয়েছে। ’

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্লোবাল ইউনিয়নের সদস্য নাজমা রহমান, বিজিএমইএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আরো অনেকে।

এই সংবাদ সম্মেলনের আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত শিল্পাঞ্চলের জিরাবো এলাকায় শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশ সেন্টার ফর লেবার সলিডারিটির কার্যালয় পরিদর্শন করেন। তবে পোশাক শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের বৈঠকের সময় গণমাধ্যমের কোনো কর্মীকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি।


মন্তব্য